বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল জঞ্জাল ও আবর্জনা দূর করে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণায় আজ তার কন্যা শেখ হাসিনা সংকট মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে এসেছেন।
বুধবার (১৪ জুন) বিকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় বঙ্গীয় সংস্কৃতি পরিষদ আয়োজিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর উদযাপনে বছরব্যাপী কমসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধু সব সময় জনগণের ওপর নির্ভর করতেন উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলনে তিনি কারাগারে থেকে ভূমিকা রেখেছিলেন। ৫৪’র নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করার এক বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন সরকারে থেকে খুব বেশি কাজ করা যাবে না। এরপর ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা ঘোষণা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এবং ৭০’র নির্বাচনে ম্যান্ডেট পাওয়ার পর জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি জানতেন জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া স্বাধীনতার স্বীকৃতি নাও হতে পারে। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে ৯ মাস লড়াই-সংগ্রাম করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম।
তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জের একেবারে নিভৃত পল্লীতে জন্ম নিয়েছিলেন। স্কুলজীবন শেষ করে কলকাতায় গিয়ে কলেজে পড়াশোনা করেছেন। বঙ্গবন্ধু শৈশব থেকে মানুষের অধিকারের ব্যাপারে সহায়তা করার প্রচণ্ড মানসিকতা ছিল। ছাত্রজীবন থেকে দেশের প্রতি তার দায়িত্ব ছিল। ৪৭’ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়। পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জাতির ওপর পশ্চিম পাকিস্তনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে তখন থেকেই তিনি প্রতিবাদ করেছেন। বিশেষত উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা এবং চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টার মানসিকতায় বোঝা গিয়েছিল- এ রাষ্ট্র বাঙালিদের নয়। সে সময় ৫৬ ভাগ মানুষ বাংলা, ১৩ ভাগ উর্দু ভাষাভাষী এবং ১৭ ভাগ মানুষ পশতু ভাষায় কথা বলতো। তখন অর্থনীতি থেকে শুরু করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সকল ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তান বৈষম্য করেছিল। বঙ্গবন্ধু শুরু থেকেই সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি, অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান ও ভারতের বঙ্গীয় গুজরাট সমন্বয়ক শ্রী অনিরুদ্ধ দত্ত প্রমুখ।










