১২ তারিখের সমাবেশ থেকে সরকার পতনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে ঢাকায় সমাবেশ হবে। এ সমাবেশ থেকে ঘোষণা আসবে সরকার পরিবর্তনের।সরকারকে উৎখাত করার জন্য, খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার জন্য, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার জন্য। সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
রোববার (৯ জুলাই) বিকেলে সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজকে সমগ্র জাতি সংকটের মুখে আছে। এই জাতির অস্তিত্ব থাকবে কি না, স্বাধীনতা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারব কি না, সেটা এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সামনে আরেকটি নির্বাচন এসে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতা দখল করে আবারও ক্ষমতাকে সম্প্রসারিত করার চেষ্টা করছে। তারা বলছে, সংবিধান দিয়ে নির্বাচন হবে, যে সংবিধান তারা অসাংবিধানিকভাবে বেআইনিভাবে কেটে ছিঁড়ে তৈরি করে রেখেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা চেয়েছি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে। কেন বলেছি, মানুষ একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে তাই। নির্বাচনের সময় একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার থাকতে হবে। না হলে আওয়ামী লীগ যদি থাকে, কেউ ভোট দিতে পারবে না। আগে অনেকে কেন্দ্রেও যেতে পারেনি। আমাদের এক কর্মীর দুই পা কেটে ফেলা হয়েছিল। সরকারের অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। তার স্ত্রী লুনা বলেছেন, তার মেয়ে যখন সামনে আসে, তখন তিনি কথা বলতে পারেন না। এখনো তার মা-সন্তানরা বাসার দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পবিত্র মাটিতে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, এখানে যারা উপস্থিত আছেন, কেউ ভোট দিতে পেরেছেন, পারেননি। তাহলে ভোট কই গেল। ভোট চুরি হয়ে গেছে, ভোট ডাকাতি হয়ে গেছে। ভোট চোর বললে এটা তাদের গায়ে খুব জ্বলে।
সমাবেশে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মাহমুদ জুয়েলের যৌথ পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাখাওয়াত হাসান জীবন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক এমপি শাম্মি আক্তার , মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমানসহ সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।










