শুরু হয়েছে হামাস, ফাতাহ ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর মধ্যকার বৈঠক।
রবিবার (৩০ জুলাই) মিশরের রাজধানী কায়রোতে বৈঠকে বসেছে দলগুলো।
এই বৈঠকে প্রধান ৩টি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে দলগুলো। সমস্যাগুলো হলো, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ কারা করবে? ফিলিস্তিন ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম বিগ্রেডের ভবিষ্যত কী? হামাস যে গাজায় আলাদা সরকার কাঠামো ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী কর্মকর্তাদের কাদের পক্ষ থেকে বেতন ভাতা দেওয়া হবে?
তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ভবিষ্যত প্রতিরক্ষা কৌশল। কেননা ফাতাহ চাই, হামাস ও ফিলিস্তিন ইসলামিক জিহাদের মতো ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠনগুলো নিরস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠনে রূপ নিক। কিন্তু হামাস চাই, সরকার গঠিত হলে কাসসাম ব্রিগেড হবে ফিলিস্তিনের মূল নিরাপত্তা বাহিনী। অপরদিকে ইসলামিক জিহাদ ও অন্যান্য নামে সংগঠিত সশস্ত্র রাজনৈতিক দলগুলোও অস্ত্রহীন নিরেট রাজনীতির পথে হাটতে নারাজ। তাই তারা শর্ত করে বসেছে যে, এই বৈঠককে ফলপ্রসূ করতে আগে ফাতাহ বা ফিলিস্তিন সরকার কর্তৃক আটককৃত তাদের নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে।
তবে আনাদোলুকে দেওয়া বক্তব্যে ফিলিস্তিন সরকারের কমিউনিস্ট প্যালেস্টেনিয়ান পিপলস পার্টির রাজনৈতিক শাখার প্রধান ফাহমি শাহিন জানান, বৈঠকে ফিলিস্তিন স্বাধীনতা সংগঠন (পিএলও) যা ঐক্যবদ্ধ স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য ১৯৬৪তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো এর কার্য পরিধি বাড়ানোর ও একে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া প্যালেস্টেনিয়ান অথোরিটি বা ফিলিস্তিন সরকারের ভূমিকা ও ইসরাইলী দখলদারিত্ব-আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা কৌশল ও এর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে।
এছাড়াও তিনি বলেন, আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের উচিত অনৈক্যকে একপাশে রেখে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে সবাইকে এক হওয়া উচিত। সবার উচিত বৈঠকে অংশগ্রহণ করা।
কিন্তু ফিলিস্তিন ইসলামিক জিহাদ এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ প্যালেস্টেনিয়ান অথোরিটি বা ফিলিস্তিন সরকার তাদের রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দিয়েছে।
দলটির নেতা খিজির হাবিব জানান, ফিলিস্তিন সরকার আমাদের দাবী মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাই আমরা এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবো না। তারা রাজবন্দীদের মুক্তির বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করছে। তাই এই বৈঠক কোনো ফল বয়ে আনবে না। বৈঠককে ফলপ্রসূ করতে তাদের উচিত ছিলো কিছু বন্দীকে মুক্তি দিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা। তাদের উপর আস্থার জায়গা তৈরি করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা এটা করেনি।
এমন ঘটনায় আস-সাঈকাহ ও অন্যান্য সশস্ত্র রাজনৈতিক দলগুলোও বৈঠকে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ তারা মনে করে, ফাতাহ বা ফিলিস্তিন সরকার চাই না বৈঠকটি ফলপ্রসূ হোক। ফিলিস্তিনে শান্তি ফিরে আসুক।
উল্লেখ্য, এর আগে আজকের বৈঠকের উদ্দেশ্যে তুরস্কে এরদোগানের সাথে বৈঠকে বসেছিলো দখলকৃত ফিলিস্তিনের প্রধান দুই দল হামাস ও ফাতাহ। বৈঠকে এরদোগান সর্বদা ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্ব ও হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন। এছাড়া জাতিসংঘের ন্যায় তুরস্কও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানে বিশ্বাসী বলে জানিয়েছিলেন। এছাড়া ফাতাহ প্রধান ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও ফিলিস্তিন সশস্ত্র ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়ার সাথে পৃথক পৃথক ভাবে একান্তে বৈঠকও করেছিলেন।
সূত্র: আনাদোলু ও টিআরটি











