আফ্রিকার দেশ নাইজারে সেনা অভ্যুত্থানের সমর্থনে রাস্তায় নেমে এসেছে জনগণ।
রবিবার (৩০ জুলাই) অভ্যুত্থানের সমর্থনে দেশটির হাজার হাজার নাগরিকের রাজধানী নিয়ামের রাস্তায় নেমে আসার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে নাইজারের নাগরিকদের ফ্রান্সের দূতাবাসের সামনে জড়ো হতে ও ভাঙচুর চালাতে দেখা যায়। এসময় তাদেরকে সেনা অভ্যুত্থান ও অভ্যুত্থানের নেতাদের সমর্থনে বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দিতে দিতে নাইজার ও রাশিয়ার জাতীয় পতাকা উড়াতেও দেখা যায়।
ফ্রান্স যেনো দ্রুত নিজেদের সেনাদের প্রত্যাহার করে উপনিবেশ ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটায় এ দাবীও জানাতে থাকে বিক্ষোভকারীরা। এসময় তারা ফ্রান্সের পতাকাও পুড়াতে থাকে।
মালিতে অভিযানে থাকা রাশিয়ার ভাড়াটে ওয়াগনার বাহিনী একে ভালো খবর বলে আখ্যায়িত করেছে। অভ্যুত্থান ও বিক্ষোভকারীদের সাধুবাদ জানিয়েছে।
অপরদিকে মামান সানী নামের এক বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের জানান, ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে নাইজারের মানুষের ভাগ্যবদল হয়নি। আগে যেমন ছিলো এখনও তেমন রয়ে গেছে। আমরা চাচ্ছিলাম আমাদের ভাগ্যবদল হোক। পুরোনো নীতি ও ফ্রান্স সমর্থিত সরকারের অবসান ঘটুক। আমরা ফ্রান্সের ম্যাক্রোকে বলতে চাই, নাইজার আমাদের। আমরা একে নিয়ে কি করবো না করবো তা সম্পূর্ণ আমাদের বিষয়। আমরা কি চাই, কাকে চাই, কীভাবে চাই, কাকে সমর্থন দিবো, কার সাথে চুক্তি করবো এসব আমরা নাইজারের জনগণ নির্ধারণ করবো। তার এসবে নাক না গলালেও চলবে।
দূতাবাস ভাঙচুর ও পতাকা পুড়ানোর ঘটনায় ফ্রান্স তীব্র নিন্দা জানায়।
নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বাজুমকে আটক করে ক্ষমতাচ্যুত করার মাধ্যমে অভ্যুত্থান ঘটানো নাইজারের সামরিক জান্তা সরকার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবী করে যে, বাজুমকে মুক্ত করতে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর জোট ‘ইকোওয়াস’ বাজুমকে পুনরায় পদাসীন, পুরোনো রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরে যেতে এই জান্তা সরকারকে ১ সপ্তাহের সময় দিয়েছে। নাহয় সামরিক অভিযান মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে মর্মে হুমকি দেয়।
উল্লেখ্য, পৃথিবীর ৭ম বৃহৎ ইউরেনিয়াম উৎপাদনশীল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারকে বহু বছর ধরে শোষণ করে আসছে ফ্রান্স সহ পশ্চিমা দেশগুলো। এমনকি পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার সাহিল অঞ্চলের বিপ্লবী সশস্ত্র মুসলিম দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সেখানে সামরিক ঘাঁটিও স্থাপন করেছে আমেরিকা ও পশ্চিমারা।
সামরিক জান্তা সরকার প্রেসিডেন্ট গার্ড প্রধান জেনারেল আব্দুর রহমান তাশয়ানিকে সরকার প্রধান বানিয়ে যে নতুন সরকার গঠন করেছে তাকেও স্বীকৃতি দেয়নি আমেরিকা ও পশ্চিমারা। স্বীকৃত সরকার হিসেবে এখনো তাদের সমর্থন বাজুম সরকারের উপর। বাজুম সরকারকে পুনর্বহালের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইইউ ও পশ্চিমারা।
সূত্র: আল জাজিরা











