spot_img
spot_img

দীর্ঘদিন পর হামাস ও ফাতাহের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত

রবিবার (৩০ জুলাই) মিশরের উপকূলবর্তী শহর আল আমিনে বৈঠকের জন্য একত্রিত হন ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। এ বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার সমন্বয়সাধনের উদ্দেশ্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বৈঠকটি বর্জন করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামি জিহাদ।

এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হল, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অস্বীকৃত (প্যারালাল গভমেন্ট) হামাস সরকার এবং ফাতাহ আন্দোলন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সরকারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন করা।

বৈঠক পরবর্তী এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট আব্বাস বলেন, “আমি ফিলিস্তিনি উপ-দল‌গুলোর সেক্রেটারিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত আজকের এ বৈঠকটিকে সংলাপ চলমান রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছি। আশা করি আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য খুব দ্রুতই অর্জন হবে।”

এছাড়াও তিনি একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যা ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার বিভক্তির অবসান ঘটিয়ে জাতীয় ঐক্য অর্জনে সহায়তা করবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আমাদের অবশ্যই এক রাষ্ট্র, এক আইন, এক নীতিমালা ও একটি বৈধ সেনাবাহিনী গঠন করতে হবে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, রবিবার ইসমাইল হানিয়াহ প্রেসিডেন্ট আব্বাসকে দখলদার ইসরাইলের সাথে ‘নিরাপত্তা সমন্বয়’ ও ‘রাজনৈতিক আটক’ বন্ধের আহ্বান জানান।

ইসমাইল হানিয়াহ আরো বলেন, “একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে।”

ফিলিস্তিনের সর্বশেষ পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে। যেখানে গাজা উপত্যকা,পশ্চিম তীর ও দখলকৃত পূর্ব জেরুসালেমের ফিলিস্তিনিরা হামাসকে জয়যুক্ত করে সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। তবে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়ায় ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে বিভেদ তীব্র হয়ে ওঠে, যা সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। পরবর্তীতে হামাস গাজা উপত্যকায় তার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। অপরদিকে ফাতাহ পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

একটি বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট আব্বাস বলেন, “আশা করি খুব শীঘ্রই মিশরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে যেখানে আমাদের জনগণের দীর্ঘ ১৭ বছরের বিভক্তির সমাপ্তি ঘটিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হবে।”

এছাড়াও তিনি প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) পুনর্গঠনের আহ্ববান জানান। যেটি ১৯৬৪ সালে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে হামাস ও ইসলামি জিহাদ গোষ্ঠী বাদে ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল রয়েছে।

আব্বাস বলেন, “ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য পিএলও একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি। তাই এই সংগঠন ও তার রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে কোন ফিলিস্তিনিদের আপত্তি থাকা উচিত নয়। বরং সবাই মিলে এটি রক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ এই সংগঠনের মাধ্যমে আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন লাভ করেছি।”

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ রবিবারে মিশরের এ বৈঠকটি বর্জন করেছে। এ বৈঠকে অংশগ্রহণের শর্ত হিসাবে তারা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আটককৃত বন্দীদের মুক্তি প্রদানের কথা উল্লেখ করেছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে বিবেচনা করছে জাতিসংঘ। শুধু চলতি বছরই দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছে যা ২০০৫ সালের পর সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা।

সূত্র: আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ