ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে মিসাইল হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। এসময় তিনি ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। হানিয়াহের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হামাস ও ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড আইআরজিসি।
গুপ্তহত্যাটি এই অঞ্চলে চলমান সংঘাতের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ফিলিস্তিন:
এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আল ওয়াফা নিউজ এজেন্সি অনুসারে তিনি বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডটি একটি কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড ও বিপজ্জনক অগ্রগতি।”
এই ঘটনার আরো নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সিনিয়র নেতা হুসেইন আল শেখ। তিনিও এই হত্যাকাণ্ডটিকে ‘কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
কাতার:
ইসমাইল হানিয়াহের মৃত্যুর বিষয়ে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। এই ঘটনাটিকে ‘জঘন্যতম অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডটি আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন যা ভয়ানকভাবে আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধি করবে।
তুরস্ক:
ইসমাইল হানিয়াহের গুপ্তহত্যার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। এই হত্যাকাণ্ডকে ‘লজ্জাজনক গুপ্তহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে লজ্জাজনকভাবে গুপ্তহত্যার তীব্র নিন্দা জানাই আমরা। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হচ্ছে যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নেতানিয়াহু সরকারের কোন ইচ্ছাই নেই।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য হল গাজ্জার চলমান যুদ্ধকে এই অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরাইলকে এই মুহূর্তেই থামানো। তা নাহলে বড় ধরনের সংঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আমাদের এই অঞ্চল।”
মালয়েশিয়া:
এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের অবিলম্বে বিচারের দাবি জানিয়েছে মালয়েশিয়া। পাশাপাশি সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনেরও আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে, সকল পক্ষকে গঠনমূলক সংলাপ ও শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া:
ইসমাইল হানিয়াহের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। এই হত্যাকে “অগ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড” বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোগদানভ। তার মতে, এই ঘটনার ফলে আঞ্চলিক উদ্বেগ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এটি দোহা সংলাপেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র:
ইসমাইল হানিয়াহের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মন্তব্য করেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পরিচালিত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইসমাইল হানিয়াহের মৃত্যুর ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মুখপাত্র।
হিজবুল্লাহ:
হানিয়াহের মৃত্যুতে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে লেবাননের ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহান এই নেতার মৃত্যুর বেদনাদায়ক অনুভূতি হামাসের সাথে একইভাবে ভাগ করে নিচ্ছি আমরা।
সূত্র: আল জাজিরা ও টিআরটি ওয়ার্ল্ড











