spot_img
spot_imgspot_img

ভারতের ওয়াকফ সংশোধনী বিল মুসলিম, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য হুমকি: ড. জাকির নায়েক

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারের প্রস্তাবিত ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে মুসলিম সম্প্রদায়, মুসলিম ওয়াকফ সম্পত্তি ও ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় দাঈ ড. জাকির নায়েক।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ওয়াকফ সংশোধনী বিলটি আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য সরাসরি হুমকি। যদি এটি পাশ হয়, তবে এটি হাজার হাজার মসজিদ, মাদরাসা ও কবরস্থানকে (হিন্দুত্ববাদীদের) দখলদারিত্বের দিকে ঠেলে দিবে।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক্স একাউন্টে এক ভিডিও বার্তায় তিনি একথা বলেন।

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার কর্তৃক নির্বাসিত জনপ্রিয় এই দাঈ আরো বলেন, বিলটি আইনে পরিণত হলে মুসলিম জনসাধারণের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। মিলিয়ন মিলিয়ন একরের ওয়াকফ জমি, অপরিহার্য ধর্মীয় স্থান-স্থাপনা সহ মুসলিমদের অন্যান্য স্থান-স্থাপনাগুলো হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হবে।

এছাড়া তিনি এই বিলের ব্যাপারে মুসলিমদের সতর্ক থাকার ও বিরোধিতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমসের আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত ওয়াকফ সংশোধনী বিলের মূল ভাষ্য হলো, ওয়াকফিয়া সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ওয়াকফ বোর্ড ও মুতাওয়াল্লীদের একচ্ছত্র ক্ষমতা কমিয়ে আনা। এতে সরকারী হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো।

সংশোধনী বিলে ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর অফিসে ওয়াকফ সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আরো প্রস্তাব রাখা হয়েছে, এই বিল পাশ হওয়ার আগে-পরে যেসব সরকারী সম্পত্তি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে পাওয়া যাবে তা ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে না। কোনো সম্পত্তি ওয়াকফিয়া নাকি না তা নির্ধারণ করবে ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের সালিশ বোর্ড। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। ওয়াকফিয়া সম্পত্তির ক্ষেত্রে এখন থেকে হাইকোর্টে আপিল করা যাবে।

এতদিন ইসলামী আইন অনুসারে মৌখিক ওয়াকফ, ওয়াকফিয়া বোর্ডের নিকট সম্পত্তি ওয়াকফের বৈধতার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রমাণিত হতো। কিন্তু এখন থেকে তা যথেষ্ট হবে না। বরং সকল আইন অনুসরণ করে লিখিত ওয়াকফ নামা আবশ্যক হবে।

ওয়াকফ সম্পত্তির অডিট ও ওয়াকফের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যেকোনো সময় সরাসরি দিকনির্দেশনা দেওয়ার অধিকার রাখবে। অথবা কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত অডিটর ও সরকারি কর্মকর্তা এই ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার রাখবেন।

কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল ও দেশের রাজ্যগুলোতে যে ওয়াকফ বোর্ড রয়েছে তাতে মহিলা প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে হবে।

সূত্র: মুসলিম মিরর, হিন্দুস্তান টাইমস

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ