কাবুলে খারেজীদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় শাহাদাত বরণ করলেন আফগান ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী শায়েখ খলিলুর রহমান হক্কানী।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) তার ভাতিজা ও অন্যতম তালেবান নেতা আনাস হক্কানী শাহাদাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শহীদ সম্পর্কিত সূরা বাকারার ১৫৪ নং আয়াত উল্লেখ পূর্বক এক এক্স বার্তায় তিনি লিখেন, আমাদের শেতাঙ্গ বর্ণের পরিবার প্রধান, মহান মুজাহিদ ও শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ্ব খলিলুর রহমান হক্কানী শাহাদাতের উচ্চ মর্যাদায় সমাসীন হয়েছেন। ইসলাম ও স্বাধীনতার জন্য বীরদর্পে দু’দুটো সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন।
এই পথ বেছে নেওয়ায় তাকে অসংখ্য আঘাতে জর্জরিত হতে হয়েছে। হয়েছেন মারাত্মক আহত। যেতে হয়েছে কারাগারে। দেখেছেন পরিবার ও নিকটজনদের অগণিত শাহাদাত। বয়ে বেড়াতে হয়েছে বিয়োগ বেদনা। কিন্তু কখনোই তিনি ভেঙে পড়েননি। বরং অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীন ও স্বাধীনতার জন্য দেশের অসংখ্য ফ্রন্টে জিহাদ করেছেন। দুই সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জিহাদে অংশ নিয়ে দু’বারই দেশকে স্বাধীন হতে দেখেছেন। হানাদারেরা ৫ লক্ষ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেও তার বিরুদ্ধে সফল হতে পারেনি। তারা ব্যর্থ হয়েছিলো। কিন্তু যারা দৃশ্যত ইসলাম ধর্মকে অনুসরণের দাবী করে শেষমেশ তাদের হাতে তাকে শহীদ হতে হলো!
ইতিহাসে খারেজীরা ইসলামের যে ক্ষতি করেছে তা আর কেউ করেনি। তারা সর্বদাই ফিতনা ও ফাসাদ সৃষ্টির পাশাপাশি ইসলামের বড় বড় ব্যক্তিত্বদের শহীদ করে এসেছে। চাচাজান খলিলুর রহমান হক্কানীও তাদের নৃশংসতায় সেই পবিত্র কাফেলায় যুক্ত হয়ে গেলেন।
আমি ও আমাদের পরিবার শাহাদাত ও আল্লাহর রাস্তায় কুরবানির ফজিলতের ব্যাপারে অজ্ঞ নই। তার শাহাদাত আমাদের জন্য মর্যাদার। তাই মুজাহিদীন ও সহানুভূতিশীলদেরও ধৈর্য ধরার আহবান জানাচ্ছি।
আফগান বার্তা সংস্থা খামা প্রেসের খবরে বলা হয়, খলিলুর রহমান হক্কানী প্রতিদিনের ন্যায় আজও দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে অফিসে বসেছিলেন। সমস্যা ও প্রয়োজন নিয়ে আসা ব্যক্তিদের কথা শুনে নামাজের উদ্দেশ্যে যখন অফিস থেকে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হতে যাবেন এমন মুহুর্তে আগতদের একজনের বিস্ফোরণ ঘটে।
অপরদিকে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আফগান শরণার্থী মন্ত্রণালয়ের অফিসে আত্মঘাতী বোমা হামলায় মন্ত্রী খলিল হক্কানী সহ ৬জন নিহত হয়েছেন।










