ভারতে মুসলিম হওয়া এখন অপরাধ! এমনকি যারা দেশের হয়ে যুদ্ধ করেছেন, বুক চিতিয়ে সীমান্তে লড়েছেন, তারাও আজ হিন্দুত্ববাদীদের রোষ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। পুনের চান্দন নগরে বসবাসরত কারগিল যুদ্ধের প্রবীণ মুসলিম সেনা হাকিমুদ্দিন শেখ ও তার পরিবারকে ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ দিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণে বাধ্য করেছে স্থানীয় পুলিশসহ একদল উগ্র গোষ্ঠী।
৫৮ বছর বয়সী হাকিমুদ্দিন শেখ ১৯৮৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ১৬ বছর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি সরাসরি কারগিল যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। অথচ আজ তাকে নিজ দেশেই বিদেশি ঘোষণা করার অপচেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে হাকিমুদ্দিনের পরিবার জানান, গত শনিবার (২৬ জুলাই) রাতে ৩০ জনের বেশি উগ্র লোক পুলিশের সঙ্গে তাদের বাড়িতে এসে হেনস্তা করে। পরিচয়পত্র দেখতে বাধ্য করে এবং রাতের বেলায় পরিবারের পুরুষ সদস্যদের তুলে নিয়ে যায়।
হাকিমুদ্দিন বিস্ময়ভরে বলেন, “আমি কারগিল যুদ্ধ করেছি। আমি ও আমার পরিবার বহু দশক ধরে এখানে বসবাস করছি। এখন আমাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে কেন?”
পরিবারের একজন সদস্য বলেন, “তারা আমাদের বলেছে, রাত ৩টার মধ্যে জাতীয়তা প্রমাণ করতে হবে, না হলে আমাদের রোহিঙ্গা কিংবা বাংলাদেশি ঘোষণা করা হবে।”
যখন পরিচয়পত্র দেখানো হয়, তখন হিন্দুত্ববাদী মানসিকতা সম্পন্ন পুলিশ ও লোকেরা তাদের কাগজপত্রকে ‘নকল’ বলে উপহাস করে।
হাকিমুদ্দিনের ভাতিজা শামসাদ শেখ বলেন, “রবিবার আমাদের আবার থানায় ডাকা হয়। আমরা দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর জানানো হয়, ইন্সপেক্টর আসবেন না। আমাদের কাগজপত্র এখনও পুলিশের কাছেই রয়ে গেছে।”
ভারতের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এখানেই থেমে থাকেনি। পুনে পুলিশ কমিশনার অমিতেশ কুমার বলেন, “দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত এমন কিছু মনে হয়নি যে পুলিশ জোর করে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেছে।” অর্থাৎ মুসলিম পরিবারের অভিযোগকেই গুরুত্বহীন করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।
পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সোমায় মুন্ডে বলেন, “আমরা একটি সূত্রের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিই। কাগজপত্র যাচাইয়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে কোনো তৃতীয় পক্ষ জড়িত ছিল না।”
কিন্তু হাকিমুদ্দিনের পরিবার বারবার বলে আসছে, পুলিশের সঙ্গেই একদল ‘অপরিচিত লোক’ এসেছিল যারা তাদের ভয় দেখিয়েছিল এবং জাতিগত গালাগাল করেছিল।
সূত্র : মুসলিম মিরর











