ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে মুসলিম গরু ব্যবসায়ীদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে বিজেপি কর্মীরা। চারজন মুসলিম ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, হাত বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো হয়। জনসম্মুখে অপমান করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ঘটনাটি ঘটে একটি থানার মাত্র ২০০ মিটার দূরে, যা দেখায়, ভারতের রাষ্ট্রব্যবস্থা মুসলিমদের নিরাপত্তায় কতটা উদাসীন।
হামলাকারীরা অভিযোগ করে, ওই ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে ২০টি চোরাই গরু পাচার করছিলেন। কিন্তু আহত ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা বাঁকুড়ার একটি বৈধ গরুর হাট থেকে নিয়ম মেনে গরু কিনেছেন এবং তাদের কাছে সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র ছিল। তারা দুর্গাপুর সংলগ্ন জেমুয়া গ্রামের বাসিন্দা।
হামলাকারীরা তাদের “বাংলাদেশি” বলে গালি দেয় এবং অপমানজনকভাবে রাস্তায় ঘোরায়। হিন্দুত্ববাদীদের হাতে মুসলিমদের এভাবে ‘বাংলাদেশি’ বলে অপমান করা এখন যেন পরিচিত কৌশল হয়ে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এক্স-এ লিখেছে, “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুজন ব্যক্তি কৃষিকাজের জন্য গরু বহন করছিলেন। তখন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কিছু দুষ্কৃতিকারী তাদের নির্মমভাবে মারধর করে। মামলা হয়েছে, দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। কাউকে ছাড়া হবে না।”
হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে বিজেপির স্থানীয় নেতা পরিজাত গাঙ্গুলীর বিরুদ্ধে। তবে তিনি দাবি করেন, “আমরা শুধু গরু পাচার থামাতে চেয়েছি। যারা মারধর করেছে, তারা স্থানীয় মানুষ।”
এই মন্তব্য থেকে বিজেপির চেনা কৌশল আবারও স্পষ্ট, হামলার নেতৃত্ব দিলেও দায় চাপানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নেতা নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আক্রান্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, “এটা বর্বরতা। ভারতের সংবিধান ও মানবাধিকারের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। মুসলিমদের এভাবে বারবার টার্গেট করা চলতে পারে না।”
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
সূত্র : মুলসিম মিরর











