ভারতের উত্তর প্রদেশে সাহারানপুরে একটি স্কুলে একজন মুসিলম মেয়েকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় বাবাকে নির্মমভাবে মারধর করেছ ওই স্কুলের উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রধান শিক্ষক। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সাহারানপুর জেলার গঙ্গোহ থানার একটি প্রাইভেট স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী বাবা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যাতে অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক অভিযোগ না শুনে বাইরে থেকে কিছু লোককে ডেকে আনেন, যারা তাকে মারধর করে।
ভুক্তভোগী মেয়ে বলেন, “আমি স্কুলে এক ছাত্রের হাতে বারবার হয়রানির শিকার হয়েছি। কিন্তু আমার অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষ একবারও শোনেনি।”
ঘটনার পর বাবা গুরুতর আহত অবস্থায় জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ভুক্তভোগীর আত্মীয়রা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, “তিনি অভিযুক্তকে রক্ষা করেছেন, বরং আমাদের মেয়েকে সুরক্ষা দেওয়ার বদলে আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।”
প্রধান শিক্ষক এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বাইরের লোককে ডাকিনি। যখন জানতে পারলাম ছাত্রটি দোষী, তখনই তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করেছি।”
তবে ভুক্তভোগীর পরিবার প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “তিনি স্পষ্ট মিথ্যা বলছেন এবং নিজেকে ও অভিযুক্তকে রক্ষা করার জন্য গল্প বানাচ্ছেন।”
ঘটনাটি নিয়ে মানবাধিকার কর্মী ও সম্প্রদায়ের নেতারা শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “একজন মুসলিম ভুক্তভোগীকে স্কুল কর্তৃপক্ষ যেভাবে আচরণ করেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
সাহারানপুরে এ ঘটনার পর আতঙ্ক এবং উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এক সম্প্রদায় নেতা প্রশ্ন তোলেন, “যে পরিবেশে মেয়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে এসে একজন বাবাকেই পেটানো হয়, সেখানে আমাদের সন্তানরা কীভাবে নিরাপদ থাকবে?”
স্থানীয়রা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরাও প্রধান শিক্ষকের কৃতকর্মের নিন্দা করেছেন। একজন লিখেছেন, “প্রধান শিক্ষক পুলিশকে খবর না দিয়ে নিজে ব্যবস্থা নিলেন এবং বাইরের লোককে ডেকে বাবাকে মারধর করালেন। ওই বাবা মুসলিম বলেই কি তিনি এটা করেছেন? এ ধরনের ঘৃণাজনিত অপরাধ কতদিন চলবে?”
সূত্র: মুসলিম মিরর











