রবিবার | ৩০ নভেম্বর | ২০২৫

কাতারের অনুরোধে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করেছিল পাকিস্তান : ইসহাক দার

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, গত মাসে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের একটি পরিকল্পিত সামরিক অভিযান কাতারের সরাসরি অনুরোধে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কাতার সে সময়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয়।

এক সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার বলেন, কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পেরেছে, কাবুলের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি বলেন, “কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পারে যে আমরা পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে এগোচ্ছি। তারা মধ্যস্থতার অনুরোধ জানায়, আর সেদিন রাতেই যে সামরিক অভিযানটি চালানোর কথা ছিল, সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

ইসহাক দার আরও বলেন, কাতার এই কারণে সন্তুষ্ট নয় যে তাদের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার কোনো অগ্রগতি বা ফল আসেনি। তার ভাষায়, “একটি বন্ধুসুলভ দেশের বিষয়ে এভাবে কথা বলা ঠিক নয়, তবে তারা এখন বিরক্ত, কারণ তারা মধ্যস্থতা করল, তবু কোনো ফল পাওয়া গেল না।”

সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার কাবুলের নেতৃত্বেরও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ এখন দেশ শাসনের দায়িত্বে আছে, তাই তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নীতি ও অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

ইসহাক দারের দাবি, বর্তমান আফগান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামলায় ৪ হাজার পাকিস্তানি নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ২০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমি কীভাবে বলি, চলুন চোখ বন্ধ করে থাকি। এসব ঘটনা কমছে না, বরং ক্রমাগত বাড়ছে।”

ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তানের শক্তভাবে জবাব দেওয়ার সামর্থ্য আছে, কিন্তু ইসলামাবাদ কোনো প্রতিবেশী মুসলিম দেশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে চায় না।

তার বক্তব্য, “এটা তাদের ভ্রান্ত ধারণা যে আমরা এ সমস্যার সমাধান করতে পারি না। আল্লাহ পাকিস্তানকে শক্তি দিয়েছেন, তবে এটাও ঠিক নয় যে আমরা গিয়ে আমাদের ভাইয়ের ঘরে ঢুকে তাকে হত্যা করব।”

ইসহাক দার রাশিয়া, বাহরাইন ও অন্যান্য দেশে তার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সফর নিয়েও গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, এসব সফরে তিনি সব সময়ই জোর দিয়ে বলেছেন, আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত পেরিয়ে সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে পাকিস্তানের যে উদ্বেগ, সে বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করছে।

ইসহাক দার পুনরায় বলেন, পাকিস্তান আফগান শরণার্থীদের “সম্মানের সঙ্গে” দেশে ফিরিয়ে দিচ্ছে এবং পাকিস্তান চায় আফগান জনগণের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হোক।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করছে, আফগান কর্তৃপক্ষ তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)–কে আফগান ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতে বাধা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

গত মাসের উত্তেজনার পর দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি নেই। তাদের ব্যাখ্যা, সম্ভাব্য যে কোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা কাবুলের পক্ষ থেকে হামলা বন্ধ করার ওপর নির্ভর করছে, আর ইসলামাবাদের দাবি অনুযায়ী বাস্তবে তা এখনো ঘটেনি।

আফগানিস্তান এখনও পর্যন্ত ইসহাক দারের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সূত্র : আরিয়ানা নিউজ

spot_img

সর্বশেষ

spot_img

এই বিভাগের

spot_img