ঢাকার শ্যামলীতে চলছে সুগন্ধিপ্রেমী ও সুগন্ধি ব্যবসায়ীদের জমজমাট মিলনমেলা। রাজধানীর শ্যামলী হোয়াইট প্যালেস কনভেনশন হলজুড়ে চলছে তিন দিনব্যাপী সুগন্ধি মেলা, যেখানে দেশীয় সুগন্ধি শিল্পের উদ্যোক্তা, ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্র্যাগরেন্স মার্চেন্ট অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএমএমএ) উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে এই সুগন্ধি মেলা। বিগত চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সুগন্ধি মেলার আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাদের বাৎসরিক এ আয়োজন।
আয়োজক সূত্র জানায়, তিন দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১১, ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর তারিখে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে মেলাস্থল শ্যামলী হোয়াইট প্যালেস কনভেনশন হল।
মেলায় অংশ নেওয়া স্টলগুলোতে রয়েছে নানা ঘরানার আতর, পারফিউম ও অন্যান্য সুগন্ধি পণ্য। সোনালি ঢাকনাওয়ালা কাঁচের বোতল, রঙিন প্যাকেজিং আর আরবীয় ঘরানার শোপিসে সাজানো স্টলগুলো দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে শুরু থেকেই। কেউ খুঁজছেন ক্লাসিক ঘ্রাণ, কেউ বা বেছে নিচ্ছেন দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য হালকা ও ফ্রেশ সুগন্ধি। আবার অনেকেই বিক্রেতাদের কাছে শুনছেন প্রতিটি ঘ্রাণের নোট, তৈরির কৌশল ও ব্যবহারবিধি।
আয়োজকদের ভাষ্য, দেশের ভেতরে সুগন্ধি শিল্প গত কয়েক বছরে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। এই মেলা সেই অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এখানে একদিকে যেমন ক্রেতারা সরাসরি পরীক্ষা করে কিনতে পারছেন নিজেদের পছন্দের সুগন্ধি পণ্য, অন্যদিকে উদ্যোক্তা ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধিরা পাচ্ছেন একে অপরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ।
মেলার টাইটেল স্পনসর হিসেবে রয়েছে হারামাইন স্টোর, আর সহযোগী ‘পাওয়ার্ড বাই’ স্পনসর খোলজি’স ট্রেজার। পাশাপাশি কো-স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হয়েছে কিবলা, ফুয়াদ আতর হাউস, এলিট ফ্র্যাগরেন্স ও উইনকার্ট। আয়োজকদের মতে, এই ব্র্যান্ডগুলোর অংশগ্রহণ মেলাকে করেছে আরও সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মেলায় প্রবেশ সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে। কোনো প্রবেশ মূল্য না থাকায় অনেকে পরিবার–পরিজন নিয়ে নির্ভার মনে ঘুরে দেখছেন পুরো আয়োজন, বেছে নিচ্ছেন নিজেদের পছন্দের সুগন্ধি কিংবা সংগ্রহে রাখার মতো ছোটখাটো উপহারসামগ্রী।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সুগন্ধি মেলা দেশের সুগন্ধি শিল্পকে শুধু বাণিজ্যিকভাবে নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও সমৃদ্ধ করছে। নতুন পণ্যের পরিচিতি, বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সুগন্ধি তৈরি ও বিপণনে এই আয়োজন সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।










