শনিবার | ১৭ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ভারত-আফগান সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক বিষয়: পাকিস্তান

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছেন, ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়, এবং দুই দেশ নিজেদের ইচ্ছামতো কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে পারে।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যতক্ষণ ভারত আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে না, ততক্ষণ ইসলামাবাদের কোনো আপত্তি নেই।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নত হবে, এবং উভয় পক্ষ সংলাপ ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিদ্যমান উদ্বেগ ও সমস্যা সমাধান করতে পারবে।

আন্দ্রাবি আরও বলেন, “আমি আগের সংবাদ ব্রিফিংগুলোতেও যেমনটি বলেছি, দুই দেশের মধ্যে একমাত্র সমস্যা হলো আফগান ভূখণ্ড থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদ। যদি এই সমস্যার সমাধান করা যায়, আমাদের সম্পর্কের উন্নয়ন ও সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।”

একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসন উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক। তারা বলেন, কাবুল ও ইসলামাবাদ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফজলমেনাল্লাহ মুমতাজ বলেন, “ইমারাতে ইসলামিয়া যে অবস্থান নিয়েছে এবং যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা পাকিস্তানিদের কাছে বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিশেষ করে তোরখাম স্থলবন্দর ও অন্যান্য পরিবহন পথ বন্ধের বিষয়টি নিয়ে। তারা ধারণা করেছিল আফগানরা পিছু হটবে, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ চাপ তাদের আরও যুক্তিসঙ্গত অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে।”

অন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজিব রহমান শামাল বলেন, “অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, উত্তেজনা আফগানিস্তান বা পাকিস্তান কোনো দেশেরই উপকারে আসেনি। বরং এর ফলে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সীমান্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে গেছে। যদিও একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে, এখনো তা কোনো উল্লেখযোগ্য ফলাফল দিতে পারেনি।

সূত্র: আরিয়ানা নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ