ভারতের উত্তর প্রদেশের বরেরইলি জেলায় একটি ভাঙাচোরা বাড়িতে নামাজ পড়ার অভিযোগে ১২ জন মুসলিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে এদের বিচারকের সামনে হাজির করা হলে জামিন মঞ্জুর করা হয়।
নামাজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনেক গ্রামবাসী পুলিশ স্টেশনে এসে অভিযোগ করেছিলেন যে, এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে জুমা ও অন্যান্য নামাজ জামায়াতের সাথে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু পুরুষ জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ছিল। হিন্দুত্ববাদীরা ভিডিওটি শেয়ার করে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এবং পুলিশের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
পুলিশ সুপার অংশিকা ভার্মা বলেন, “অনুমতি ছাড়া কোনো ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজন করা বেআইনি। যদি কোথাও এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুনরায় ঘটে, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইনের প্রতিরোধমূলক বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে।
বরেরইলি পুলিশ জানায়, “ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ যথাযথভাবে মোকাবিলা করেছে।” পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে যে মুসলিম পুরুষরা অনুমতি ছাড়া নামাজ পড়েছিল।
সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করে, তবে অনেকেই নামাজ পড়া ব্যক্তিদের নিন্দা জানিয়ে কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মীরা গ্রেপ্তারির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া একটি নামাজের জামায়াত আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হলো।
উদ্বেগ প্রকাশকারীরা বলছেন, এ ধরনের নামাজ সাধারণত শান্তিপূর্ণভাবে হয়, কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ হয় এবং প্রায়ই কাছাকাছি মসজিদ বা নির্ধারিত নামাজের স্থান না থাকায় এভাবে অনুষ্ঠিত হয়। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন, পরিস্থিতি জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য নয়, বরং পর্যাপ্ত ধর্মীয় পরিকাঠামোর অভাবের কারণে।
সূত্র: মুসলিম মিরর











