বুধবার | ২১ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

রমজান উপলক্ষ্যে ৪১১ সামরিক কেন্দ্রে কুরআন শিক্ষা চালু করল আফগান সরকার

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের হজ ও ওকাফ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশটির ৪১১টি বড় সামরিক কেন্দ্রে শাবান ও রমজান মাসে পবিত্র কুরআন শরীফের অনুবাদ এবং তাফসিরের পঞ্চম শিক্ষা পর্ব শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই শিক্ষা পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রী শেখ নূর মুহাম্মদ সাকিব, আলেম-ওলামা, শায়েখ, মুফতী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিনিধি।

মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ইমারাতে ইসলামিয়ার নেতৃত্বের অনুমোদনে প্রতি বছর এই শিক্ষা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারা দেশের শত শত যোগ্য আলেম ও প্রবীণ শায়েখরা শতাধিক বড় সামরিক কেন্দ্রে হাজার হাজার মুজাহিদকে কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির শেখান। সাধারণ জনগণের জন্যও এটি জাতীয় রেডিও টেলিভিশনের মাধ্যমে উভয় রাষ্ট্রীয় ভাষায় (পশতু ও দারি) সম্প্রচার করা হয়।

মন্ত্রী শেখ নূর মুহাম্মদ সাকিব সভায় কুরআন অনুবাদ ও তাফসিরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, দেশের সব ৩৪টি প্রদেশে এই শিক্ষা পর্ব শুরু হবে এবং এটি চলবে রমজানুল মোবারকের ২৫ তারিখ পর্যন্ত।

মন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রণালয় এই শিক্ষা পর্বগুলোকে দেশের কেন্দ্র ও সব প্রদেশে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। চলতি ১৪৪৭ হিজরি সনে এসব কেন্দ্রের সংখ্যা হয়েছে ৪১১টি, যার মধ্যে ৩৬৪টি প্রদেশে এবং বাকি ৪৭টি কাবুল শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে, যাতে কুরআনের শিক্ষা ও বরকত থেকে দেশের প্রতিটি নাগরিক পূর্ণভাবে উপকৃত হতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া ক্ষমতায় আসার পর ইরশাদ, হজ ও ওকাফ মন্ত্রণালয় কুরআনের খেদমতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, কারণ কুরআনই হলো ইসলামের পবিত্র ধর্ম ও ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি, শরিয়তের প্রধান উৎস এবং সব বিধান ও আহকামের মূল উৎস।

আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে মন্ত্রী কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন-

অনুবাদ ও তাফসিরের শিক্ষা পর্বে সব তালেবান ও সাধারণ জনগণকে বিশেষভাবে নিয়ত শুদ্ধ রাখা, দ্বীনদারি ও আমানতদারির প্রতি জোর দিয়ে নসিহত করতে হবে।

মুজাহিদদেরকে নম্র আচরণ ও উত্তম চরিত্র অবলম্বন করতে হবে এবং অহংকার ও ঔদ্ধত্য থেকে বিরত থাকতে হবে।

হানাফি মাযহাবের সত্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব কার্যকর পদ্ধতিতে এবং সন্তোষজনক দলিল-প্রমাণসহ উপস্থাপন করতে হবে।

ভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট চিন্তাধারার ব্যাপারে শরিয়তসম্মত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

মুজাহিদদের কুসংস্কার, মনগড়া চিন্তা-ভাবনা, মতবাদ ও এমন সব কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে যা ইসলাম ও ধর্মকে অপদস্থ করে।

মুজাহিদ ও সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে হবে যেন তারা বিভেদ, সন্দেহ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এমন বক্তব্য প্রচার না করে।

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কাফেরদের সঙ্গে জায়েজ ও নাজায়েজ সম্পর্ক- যেমন মওয়ালাত, মদারাত, মুওয়াসাত ও লেনদেন/মামলা এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

মুজাহিদ ও জনগণকে বুঝাতে হবে, যেন তারা শত্রুদের প্রোপাগান্ডা ও প্রচারের ফাঁদে না পড়ে। শত্রু বর্তমানে শুধু প্রচারণা চালাচ্ছে; তাদের আর শক্তি নেই। আমাদের এই যুদ্ধেও বিজয়ী হতে হবে এবং শত্রুকে ব্যর্থ করতে হবে।

মন্ত্রণালয় সারা দেশে অনুবাদ কার্যক্রমের নিয়মিত তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করবে। প্রাদেশিক পরিচালকরা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন।

সাধারণ জনগণের জন্য জাতীয় রেডিও টেলিভিশনের মাধ্যমে দুইজন প্রবীণ শায়েখের দ্বারা সরাসরি, উভয় ভাষায় (পশতু ও দারি) কুরআনুল কারিমের অনুবাদ ও তাফসির প্রদর্শন করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাওলানা মাখদুম আবদুল হক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি মাওলানা সাইয়্যেদ আগা, গোয়েন্দা বিভাগের প্রতিনিধি মুফতী মাহমুদুল হাসান, জাতীয় রেডিও টেলিভিশনের মহাপরিচালক ক্বারী মুহাম্মদ ইউসুফ আহমাদি, আমন্ত্রিত শায়েখগণ শায়েখ তালেব জান আদিব ও শায়েখ মুফতী মুহাম্মদ তাহের।

তারা সবাই এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং এটিকে জনগণ ও মুজাহিদদের জন্য একটি বিরাট সেবার কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সূত্র: আরটিএ

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ