আমেরিকার যেকোনো সম্ভাব্য আক্রমণের প্রতিক্রিয়ার জন্য আফগান মুজাহিদিনদের আদলে একটি গেরিলা বাহিনী তৈরি করছে কানাডার সামরিক বাহিনী।
সম্প্রতি কানাডার জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাতে এক পতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গ্লোব অ্যান্ড মেইল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোর সাথে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল চেষ্টা এবং কানাডাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে অটোয়া।
কানাডীয় পরিকল্পনাকরীরা বলছেন, দক্ষিণ দিক থেকে মার্কিন বাহিনী কোনো প্রথাগত হামলা চালালে মাত্র দুই দিনের মধ্যে কানাডার প্রধান স্থল ও সামুদ্রিক অঞ্চলগুলো তারা দখল করে নিতে পারে। মার্কিন বাহিনীর প্রথাগত শক্তিশালী সামরিক শক্তি প্রতিহত করার সামর্থ নেই কানাডার সশস্ত্রবাহিনী। ফলে তারা গেরিলা-ধাঁচের যুদ্ধের কল্পনা করছেন, যেখানে নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অনিয়মিত বা সশস্ত্র বেসামরিক জনগণের ছোট ছোট ইউনিট নাশকতা, ড্রোন হামলা এবং হিট-এন্ড-রান আক্রমণ চালাবে। ঠিক যেমনটি ১৯৭৯-১৯৮৯ সালের যুদ্ধে সোভিয়েত সৈন্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতো আফগান মুজাহিদিনরা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটি বলছে, গত এক শতাব্দীর মধ্যে প্রথমবারের মতো কানাডা, যারা ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং মহাদেশীয় বিমান প্রতিরক্ষায় মার্কিন অংশীদার হয়েও সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসনের হুমকির মধ্যে রয়েছে। গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পাদিত ছবি শেয়ার করার পর এই হুমকি আরও বেড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে গ্রিনল্যান্ড, কানাডা, কিউবা এবং ভেনেজুয়েলার মানচিত্রের ওপর মার্কিন পতাকা উড়ছে।
এদিকে কানাডীয় কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের গেরিলা বাহিনীর মডেলটি ‘একটি ধারণাগত এবং তাত্ত্বিক কাঠামো, সামরিক পরিকল্পনা নয়’ এবং যুক্তরাষ্ট্র সহসাই কানাডায় আক্রমণ করতে পারে এমস কোনো ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে না। তবে ন্যাটোর ভেতরের ফাটল কানাডাকে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রের বিরুদ্ধে এমন অপ্রচলিত প্রতিরক্ষামূলক চিন্তা করতে বাধ্য করছে।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বিশ্বের মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে কঠোর শক্তি রাষ্ট্রের আধিপত্যের- অথাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ এবং ডেনমার্ক।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যদি কোনো দেশ আলোচনার টেবিলে নিজের অবস্থান শক্ত না করতে পারে, তবে তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে হবে’।
এছাড়াও গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটিতে একটি ছোট সেনাদল পাঠানোর বিষয়টিও কানাডা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানান কার্নি।
সূত্র: আরটি











