বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে সফরে এসেছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী মাওলানা আহমাদুল্লাহ জাহিদ। সফরে তিনি বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। ঢাকা ও কাবুলের বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী বিমান চলাচলের প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে বিনিয়োগের অনুরোধও জানিয়েছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, গত রোববার থেকে বাংলাদেশ সফররত মাওলানা আহমাদুল্লাহ জাহিদ এরই মধ্যে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত সোমবার তিনি ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়ে একটি সেমিনারেও অংশ নেন।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানান, আফগান উপমন্ত্রীর সঙ্গে স্বল্প সময়ের জন্য সৌজন্য আলোচনা হয়েছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন এবং শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়টি তুলেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আফগানিস্তানে আরও বেশি পরিমাণে ওষুধ আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে বাণিজ্যচুক্তি ও শুল্কমুক্ত সুবিধার মতো বিষয়গুলো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রসর করতে হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আমন্ত্রণে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন আফগান উপমন্ত্রী। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর দেশটি থেকে কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের এটিই প্রথম ঢাকা সফর বলে জানানো হয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নিতে তাদের আমন্ত্রণেই আফগান প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করছে। তিনি জানান, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই বাংলাদেশের ওষুধ। এ কারণে আফগানিস্তান বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণে ওষুধ নিতে আগ্রহী।
এই সফরে আফগান উপমন্ত্রী বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় দ্রুত পণ্যবাহী বিমান চলাচল শুরু করার প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কাবুল থেকে ঢাকায় ফলমূল পরিবহন করা হবে এবং ফিরতি ফ্লাইটে বাংলাদেশের ওষুধ কাবুলে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত আফগানিস্তানে বিনিয়োগের অনুরোধ জানান।











