শাকের হোসাইন শিবলি রচিত ‘প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষীর বয়ানে জামায়াত-শিবির-মওদুদিবাদের মুখোশ উন্মোচন’ প্রামান্য গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা জামায়াত-শিবির ও সংশ্লিষ্ট মতবাদ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন এবং বলেন, এ বিষয়ে আলেমদের অবস্থান রাজনৈতিক নয়, আদর্শিক; ভুল আকিদা-বিশ্বাস সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা আলেমদের ধর্মীয় দায়িত্ব।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ‘৪৭-এর দেশভাগ থেকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান: আলেমসমাজের ভূমিকা ও আগামীর করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আকিদা সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক মুফতি রিজওয়ান রফীকি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জামায়াত-শিবির ও সংশ্লিষ্ট মতবাদ নিয়ে আলেমদের বিরোধ রাজনৈতিক নয়, আদর্শিক। তাদের ভুল আকিদা-বিশ্বাস বিষয়ে জাতিকে সতর্ক করা আলেমদের ধর্মীয় দায়িত্ব। যুগে যুগে আলেমরা বক্তব্য-লিখনীর মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
বক্তারা বলেন, জামায়াত-শিবির সবসময় ইসলামের নামে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলমান ও জনগণকে বিভ্রান্ত করে আসছে। তারা আরও বলেন, জামায়াত এক সময় ‘আকিমুদ্দীন’ তথা দ্বীন প্রতিষ্ঠার কথা বলতো, এখন তারা দলীয় লোগো থেকে সেই শব্দটি সরিয়ে ফেলেছে। নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে তারা বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে রাজনীতি করলেও আদর্শিকভাবে সে পথে তারা নেই।
বক্তারা বলেন, জামায়াত মদিনার নয় বরং মওদুদীর ইসলাম কায়েম করতে চায়। তারা বলেন, মওদুদীবাদী জামায়াত প্রতিষ্ঠা থেকেই ইসমতে আম্বিয়া এবং সাহাবীগণকে মিয়ারে হক মানে না, ইসলাম বিষয়ে তাদের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাস ঠিক নেই। এ কারণে বিশ্বের মূলধারার আলেমরা কখনোই তাদের ইসলামি দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি বলেও বক্তারা দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে তারা হেফাজত আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, তিনি ‘ভণ্ড’ আখ্যায়িত করে বলেছেন “আমরা জামায়াতকে ইসলামি দল মনে করি না। তারা কখনও মদিনার ইসলাম চায়নি, তারা চায় মওদুদীবাদ প্রতিষ্ঠা করতে। তাই তাদের সঙ্গে ঐক্য সম্ভব নয়।”
বক্তারা বলেন, ক্ষমতার জন্য জামায়াত-শিবির ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধানের অপব্যাখ্যা করছে। আবুল আলা মওদুদীর ভ্রান্ত মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত এ গোষ্ঠীটি শুরু থেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে ইসলামের বিভিন্ন বিধানের অপব্যাখ্যা করে আসছে, আর এখন ক্ষমতার লোভে এসব অপতৎপরতা কয়েকগুণ বেড়েছে বলেও তারা বলেন।
তারা বলেন, বিভিন্ন মসজিদ-মাহফিলে অপব্যাখ্যার বিষয়ে কথা বলায় ইমাম ও বক্তাদের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামের নামে এমন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসের কারণে শান্তির ধর্ম ইসলামের বদনাম হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে আলেম ও প্রশাসনের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, এবারের নির্বাচনকে ঘিরেও ইসলামী ঐক্যের নামে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে জামায়াত প্রতারণা করেছে। শুরুতে তারা সব ইসলামী দলকে ইসলাম কায়েমের স্বপ্ন দেখিয়ে শেষপর্যন্ত ইসলামী দলগুলোর ঐক্য ভেঙে দিয়েছে বলেও তারা বলেন।
বক্তারা বলেন, তারা যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়, তাহলে দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, দাওয়াত-তাবলিগ, তাসাউফ ও সুলুকের কাজ হুমকির মুখে পড়বে, তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যারা ইসলামের নামে মওদুদীবাদ এবং বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করে, তাদের আগামী নির্বাচনে ভোট না দেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) মহাসচিব মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আজম খান, জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, ইসলামী ঐক্যজোটের সহ প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হক হাফেজ্জী, যুব জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী নাসির আহমদ, জবান সম্পাদক রেজাউল করীম রনি, ছনটেক মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস মাওলানা আবদুল আউয়াল, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মাওলানা আতাউর রহমান আতীকি, তেজগাঁও মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা লিয়াকত আলী মাসউদ, আরজাবাদ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা সাইফুদ্দীন ইউসুফ ফাহিম, লেখক অনুবাদক মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক প্রমুখ।











