ফিলিস্তিনপন্থী অনশনরত বন্দী উমরের পক্ষে কারাগারের বাইরে বিক্ষোভ করায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছে লন্ডন পুলিশ।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম লন্ডনের ওয়ার্মউড স্ক্রাবস কারাগারের বাইরে বিক্ষোভ করায় শনিবার প্রায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছে লন্ডন পুলিশ।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ফিলিস্তিনপন্থী অনশনরত বন্দী উমর খালিদের সঙ্গে কারা-আচরণ বিষয়ে শহরটির গভর্নর অ্যামি ফ্রস্ট যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা লিখিত আকারে দেওয়ার দাবীতে বিক্ষোভকারীরা কারাগারের বাইরে অবস্থান নিয়েছিলেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ‘প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইনের’ এক মুখপাত্র বলেন: “উমরের পানি না পানের ধর্মঘট যখন দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করার দিনে গত রাতে ওয়ার্মউড স্ক্রাবসের বাইরে হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের প্রতিক্রিয়া ছিলো সহিংস ও ভয়াবহ রকমের অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পেনশনভোগীসহ উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের পুলিশ ঘুষি ও লাথির পাশাপাশি মাটিতে মুখ নিচের দিকে করে বেঁধে রেখেছিলো। পুলিশের এক ‘ব্রোঞ্জ কমান্ডারকে’ ভিডিওতে হাতকড়া পরানো এক বিক্ষোভকারীকে বারবার ঘুষি মারতেও দেখা গেছে।
তিনি আরো বলেন, লন্ডন পুলিশকে এই একটি বিক্ষোভেই ১০০টি সহিংস গ্রেফতারে জড়াতে দেখা গিয়েছে, যা রাষ্ট্রের ভঙ্গুরতা ও আতংককে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে। আমাদের বন্দিরা দেখিয়ে দিয়েছে—কোনো কারাগারের শিকই তাদের প্রতিরোধ থামাতে পারে না, আর বাইরে কোনো মাত্রার সহিংসতাই ফিলিস্তিনের পক্ষে আমাদের আন্দোলন জোরদার করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না।
এছাড়াও বলেন, শত শত মানুষ সরাসরি কর্মসূচির মাধ্যমে ব্রিটেন থেকে এলবিটকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার করেছেন। এই দমন-পীড়ন ও সহিংসতা আমাদের আরো শক্তিশালীই করবে।
লন্ডন পুলিশ বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতারের পেছনে কারা-এলাকায় গুরুতর অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনে। এর জবাবে এক প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “এমন কোনো নিয়ম নেই যে সেখানে (কারা-এলাকায়) যাওয়া যাবে না। বিক্ষোভ কর্মসূচিটি ছিলো দর্শনার্থীদের প্রবেশপথ ও কারাগারের বিশাল খোলা গেটে, যেখানে কোনো নিরাপত্তাকর্মীও ছিলো না। কাউকেই চলে যেতে বলা হয়নি এবং কেউ কারাগারের কর্মীদের পথও আটকায়নি। বরং আমি দেখেছি, কারাগারের কর্মীরা আমাদের পাশ দিয়ে হেঁটে ভেতরে ঢুকেছেন, যে প্রবেশপথে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন এর তথ্যমতে, অনশনরত কারাবন্দী উমর খালিদ ‘লিম্ব-গার্ডল মাসকুলার ডিস্ট্রফি’ নামক একটি বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত। ওয়ার্মউড স্ক্রাবস কারাগারে তাকে বন্দী রাখা হয়েছে এবং ইসরাইল বিরোধী একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়েছে। তিনি প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইনের ডাকে সাড়া দিয়ে অনশন আন্দোলনে অংশ নেওয়া শেষ অবশিষ্ট অনশনকারী।
উমার বর্তমানে তার অনশন কর্মসূচির ১৬তম দিনে এবং তৃষ্ণা বা পানি পান না করার ধর্মঘটের ৩য় দিনে রয়েছেন। বিরল রোগের কারণে তার অনশন কর্মসূচির ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে। এর আগে তিনি ১২ দিন অনশন করার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং হাঁটতেও অক্ষম হয়ে গিয়েছিলেন।
উমারের বিরুদ্ধে আরএএফ ব্রাইজ নরটন ঘাঁটিতে সংঘটিত একটি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে, যেখানে দুটি সামরিক বিমানে স্প্রে পেইন্ট করা হয়েছিলো।
‘আন-ফিল্টার্ড ফ্লাইট ট্রান্সপন্ডার’ কর্তৃক প্রকাশিত তথে দেখা যায়, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ইসরাইলী বিমান বাহিনীর কেসি-৭০৭ মডেলের রে’ঈম বিমান গত গ্রীষ্মে ব্রিটেনের আরএএফ ব্রাইজ নরটন এ অবতরণ করেছিলো এবং পরবর্তীতে গাজ্জার দিকে যাত্রা করছিলো।
এই বিমান ২টি ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজ্জার আকাশে ছিলো, যখন দুটি যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো। ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কয়েকটি যুদ্ধবিমান উত্তর গাজ্জার বাইতে লাহিয়া শহরের এক আবাসিক কমপ্লেক্সে বোমা হামলা চালিয়েছিলো, যেখানে ৭৩ জন শহীদ হয়।











