বুধবার | ২৮ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে আমেরিকা

চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) কমানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

তিনি জানান, আমেরিকা এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং শিগগিরই এ-সংক্রান্ত একটি ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কী পরিমাণ কমানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর থেকে শুল্ক কমানোর বিষয়ে বাস্তবিক অর্থেই আগ্রহী এবং বিষয়টি খুব শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে।

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এ বিষয়ে সরাসরি আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অশুল্কনীতি ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বেশ কিছু অবস্থান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসাও ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর থেকে বাণিজ্যিক বাধা ও শুল্ক কমাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুতই এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসবে।

এদিকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে লুৎফে সিদ্দিকী জানান, দাভোসে ইইউ কমিশনার রোক্সানা মিনজাতু এবং জোজেফ সিকেলার সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে একটি এফটিএ স্বাক্ষরের বিষয়ে স্পষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ইইউ পক্ষও এ বিষয়ে নীতিগতভাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে ধীরগতির বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লুৎফে সিদ্দিকী জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের সঙ্গে একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছে এবং এরপর তারা ভিয়েতনামের দিকেও অগ্রসর হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় পরবর্তী সরকারের জন্য তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত নোট ও সুপারিশ রেখে যাবেন, যাতে ভবিষ্যতে আলোচনাগুলো আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেয়া যায়।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ