বৃহস্পতিবার | ২৯ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

তুমুল বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি আইনকে শক্তিশালী করছে উত্তরাখণ্ড সরকার

ধর্ম বর্ণ সকলের জন্য তুমুল বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি আইনকে শক্তিশালী করছে ভারতের উত্তরাখণ্ডের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মুসলিম মিররের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্রগণ্যের ভিত্তিতে উত্তরাখণ্ডের সরকার তুমুল বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) পরিমার্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

‘উত্তরাখণ্ড অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ধর্মহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুরমিত সিং (অবসরপ্রাপ্ত) এর সম্মতি পাওয়ার পর সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কার্যকর করা হয়।

এই অধ্যাদেশটি ২০২৪ সালে গৃহীত মূল ইউসিসি আইনে প্রায় ১৫টি সংশোধনীর প্রবর্তন করে। ১৫টি সংশোধনী সহ যা গত বছর ২৭ জানুয়ারী কার্যকর হয়েছিলো।

এর ফলে উত্তরাখণ্ড হিন্দুত্ববাদী ভারতের প্রথম রাজ্য হয়ে উঠে যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রযোজ্য হওয়ার আইন গৃহীত হয়।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এই আইন ও এতে সংশোধনীগুলোর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো, বিচার ও সমস্যা সমাধানের প্রায়োগিক সমতা, স্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা। একই সাথে নাগরিকদের অধিকারের জন্য শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করা। বিশেষত, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, লিভ-ইন সম্পর্ক এবং উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে।

মূল সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভুল পরিচয় উপস্থাপনকে বিবাহ বাতিলের বৈধ কারণ হিসেবে গণ্য করা। যেনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির সাথে বিবাহকে বাতিল করতে বেগ পোহাতে না হয়। শোষণ রোধের পাশাপাশি সম্মতি-ভিত্তিক মিলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিবাহ এবং লিভ-ইন সম্পর্কে বলপ্রয়োগ, জবরদস্তি, জালিয়াতি বা যেকোনো বেআইনি কাজ রোধ করার জন্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চালু করা।

এই অভিন্ন দেওয়ানি আইনের একটি উল্লেখযোগ্য বিধান হলো, লিভ-ইন সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক অবসানের স্বীকৃতি। রেজিস্ট্রার অফিস সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শংসাপত্র জারি করবে।

এছাড়া নারী নির্দেশক ‘বিধবা’ শব্দকে লিঙ্গ নিরপেক্ষ শব্দ ‘বৈবাহিক সঙ্গী’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

অনিয়ম পাওয়া গেলে রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা জেনারেল বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, লিভ-ইন সম্পর্ক এবং উত্তরাধিকার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধনও বাতিল করার ক্ষমতা রাখবে। যদি কোনও সাব-রেজিস্ট্রার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে চলে যাবে।

সংবাদমাধ্যনের তথ্যমতে, অভিন্ন দেওয়ানি আইনের এই সংশোধনীগুলো আধুনিক ভারতীয় দণ্ডবিধি-২০২৩ এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা কোড-২০২৩ (পুরাতন সিআরপিসি এবং আইপিসি প্রতিস্থাপন) এর সাথে দণ্ডবিধির বিধানগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলেছে। সংশোধনীগুলো সাব-রেজিস্ট্রারদের উপর আরোপিত শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকারও প্রবর্তন করে এবং ভূমি রাজস্ব হিসাবে জরিমানা আদায়েরও সুযোগ দেয়।

উল্লেখ্য, অভিন্ন দেওয়ানি আইন বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড ৯০ এর দশক থেকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপির মূল এজেন্ডার অংশ। তারা সবসময় চেয়ে আসছিলো, ভারতে যেনো মুসলিমদের আলাদা বিচার-আচারের ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মুসলিম দলগুলো এই আইনের তুমুল বিরোধিতা করে আসছিলো। কিন্তু তা সত্ত্বেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তা গৃহীত ও কার্যকর করতে সক্ষম হয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির সরকার। বিশেষত, উত্তরাখণ্ডে।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ