ভারতের উত্তরাখণ্ডের বিকাস নগর এলাকায় ১৮ বছর বয়সী এক কাশ্মীরি মুসলিম কিশোরের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। শীতের মৌসুমে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে কিশোরটি পরিবারসহ শাল বিক্রি করছিল। এ সময় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা তাকে ঘিরে ধরে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে কিশোরটির পরিচয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরিবারটি মুসলিম এবং কাশ্মীরের বাসিন্দা জানার পর পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। এরপর কিশোরটিকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং বারবার ঘুষি মারা হয়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের টেনে-হিঁচড়ে নেওয়া হয়, চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং ধারালো লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়।
হামলায় কিশোরটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়, বাম হাত ভেঙে যায় এবং লোহার রডের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়। হামলার পর তার মাথা থেকে রক্ত ঝরেছিল বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়।
আহত কিশোরকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেরাদুনের দুন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএসএ) এক বিবৃতিতে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক পরিচয় যাচাই ও দলবদ্ধ নৃশংসতার উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, পরিবারের জন্য সম্মানজনক জীবিকা নিশ্চিত করতে বের হওয়া এক তরুণ সহমর্মিতার বদলে ঘৃণা ও সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছে। তারা অন্য রাজ্যগুলোতে মৌসুমি কাশ্মীরি ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র : মুসলিম মিরর











