আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের রিয়াদ সফরে প্রতিবন্ধকতার খবরগুলো ভুয়া বলে বিবৃতি দিয়েছে সৌদি আরব।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আবুধাবির উপশাসক শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের রিয়াদ সফরে সৌদি সরকারের অসম্মতির যে তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সরকার।
সৌদি তথ্য মন্ত্রী সালমান আল-দোসারি এক এক্স বার্তায় জানান, “সৌদি আরব শেখ তাহনুনের সফর প্রত্যাখ্যান করেছে” মর্মে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তার সবগুলোই ভুয়া।
তিনি লিখেন, “শেখ তাহনুন বিন জায়েদ যখন ইচ্ছা তখনই কোনো অনুমতির প্রয়োজন ছাড়াই সৌদিতে আসতে পারেন। সৌদি আরব তার ঘরের মতো এবং এর নেতৃত্ব (সৌদি সরকার) তার পরিবারের মতো।”
এর আগে গত সোমবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জোর দিয়ে এও বলেছিলেন, সৌদি আরব আমিরাতের সঙ্গে শক্তিশালী ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর ভেতরে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে বিবেচনা করে।
এছাড়াও বলেছিলেন, “ইয়েমেন বিষয়ে আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। তবে, ইয়েমেন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যদি তারা সত্যিই পুরোপুরি সরে গিয়ে থাকে, তাহলে সেখানকার দায়-দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিবে সৌদি সরকার।”
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো যোগ করেন, “দু’দেশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য এটিকে আমি অপরিহার্য বলে মনে করি।”
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে আমিরাত-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক প্রদেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি আরব ও আমিরাতের সম্পর্কের উপর উত্তেজনার প্রভাব পড়ে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনী এতে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। আমিরাত মূলত এর পরপরই ইয়েমেন থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
সৌদির আজকের প্রত্যাখ্যানমূলক বিবৃতিটি এমন সময়ে এসেছে, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবী করা হচ্ছিলো যে, সৌদি সরকার আমিরাতের শেখ তাহনুন বিন জায়েদকে আতিথ্য দিতে অস্বীকার করেছে।











