আমেরিকার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এসব নথিতে সাবেক ও বর্তমান বিশ্বনেতা, শিল্পপতি ও কূটনীতিকদের যোগাযোগ, ই-মেইল ও ব্যক্তিগত মন্তব্যের তথ্য রয়েছে। নথিগুলোতে অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও দুই হাজার ভিডিও থাকার কথা বলা হয়েছে।
নথিতে ভারত নিয়েও বহু মন্তব্য করতে দেখা গেছে। এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক জাতিসংঘ দূত নরওয়ের কূটনীতিক টেরিয়ে রোড-লারসেন ২০১৫ সালে এপস্টেইনকে পাঠানো এক ইমেইলে প্রকাশ্য বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই প্রবাদটি শুনেছ? সাপ আর ভারতীয় একসঙ্গে পেলে আগে ভারতীয়কে মারো।’
এই ই-মেইলটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতীয় নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, ‘এটা অত্যন্ত জঘন্য এবং বিকৃত রুচির পরিচয়।’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘এরা ভারতীয়দের কতটা ঘৃণা করে, এই মন্তব্যই তার প্রমাণ।’
এপস্টেইন নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ শীর্ষ মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির নামও উঠে এসেছে। ২০১৪ সালে ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে অবসর নিয়ে মোদির দল বিজেপিতে যোগ দেয়া পুরি এসব নথিতে একাধিকবার স্থান পেয়েছেন।
নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের জুন মাসে হরদীপ সিং পুরি ও জেফ্রি এপস্টেইনের মধ্যে ই-মেইল আদান–প্রদান হয়। ওই সময় তারা লিংকডইনের সহ–প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা করেন। পরে পুরি এপস্টেইন ও হফম্যানকে ভারতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং মোদি সরকারের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরে হফম্যানকে ভারত সফরের জন্য উৎসাহিত করেন।
রেকর্ডে দেখা যায়, ২০০৮ সাল থেকে নিবন্ধিত যৌন অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও হরদীপ সিং পুরি একাধিকবার নিউইয়র্কে এপস্টেইনের ম্যানহাটনের বাসভবনে যান। এসব সফরের তারিখ ছিল ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি এবং ২০১৭ সালের ১৯ মে। এ বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমকে পুরি দাবি করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সব যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ ছিল কেবল ব্যবসায়িক কারণে।
তবে নথিতে দেখা যায়, পুরি যখন এপস্টেইনকে ভারতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহী করার চেষ্টা করছিলেন, তখন ব্যক্তিগত ইমেইলে এপস্টেইন ভারতের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করছিলেন। ২০১৪ সালের এক ইমেইলে তিনি ভারতকে “নোংরা” আখ্যা দিয়ে লেখেন, ‘আমি ভারতের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই রাখতে চাই না।’ ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘গরম, বিষ্ঠার মতো গন্ধ, ভীষণ নোংরা।’
২০১২ সালে বিল গেটসের সাবেক বিজ্ঞান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিকের সঙ্গে এক ই-মেইল বিনিময়েও এপস্টেইন ভারতের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেন। নিকোলিক দিল্লি ও পুনেতে আটকে পড়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জায়গাগুলোকে “নোংরা” ও “মধ্যবর্তী কোথাও নয়” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘এপস্টেইন সেখানে গেলে ঘৃণা করবেন।’ আরেকটি ইমেইলে এপস্টেইন নিজেই লেখেন, ‘ভারত ছাড়ছি, ঘৃণা করি।’
এ ধরনের মন্তব্য ও তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ভারতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং সাম্প্রতিক এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে উঠে আসা তথ্যের ব্যাখ্যা দাবি করেছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড











