জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, পাকিস্তানের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে এবং চীনও আস্থা হারাচ্ছে। তিনি সিপেকের অগ্রগতি, আফগান নীতির ধারাবাহিক ভুল, সীমান্ত নিরাপত্তা, গাজ্জায় ইসরাইল-আমেরিকার ভূমিকা ও মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের অবস্থান তুলে ধরে সরকারের নীতিকে দায়ী করেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির কারণে প্রতিটি প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তার ভাষায়, “ভারতের সাথে যুদ্ধাবস্থা, আফগানিস্তানের সাথেও যুদ্ধাবস্থা, চীন নারাজ এবং ইরানও অসন্তুষ্ট।” তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই পরিস্থিতিতে সরকার কীভাবে দাবি করে যে তারা পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষা করছে?
রবিরবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে জেইউআই যুব কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান ও চীনের বন্ধুত্ব একসময় হিমালয়ের চেয়ে উঁচু এবং মধুর চেয়ে মিষ্টি বলে গণ্য হতো। চীন পাকিস্তানের ওপর আস্থা রেখে বিশাল বিনিয়োগ করেছিল।
তিনি বলেন, ইমরান খানের সরকারের সময় অভিযোগ ছিল যে সিপেক প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান শাসকদের উদ্দেশ্য করে তিনি প্রশ্ন করেন, তাদের শাসনামলে কি “একটি ইটের কাজও” কি এগিয়েছে?
তিনি আরও বলেন, চীন আশা করেছিল সরকার পরিবর্তনের পর বিনিয়োগের পথ খুলবে, কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি। ফলে চীন এখন পাকিস্তানের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে এবং হতাশ হয়ে পড়েছে।
আফগানিস্তান প্রসঙ্গে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং পাকিস্তানের নীতি নির্ধারকদের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৭৮ বছর ধরে জহির শাহ থেকে শুরু করে কমিউনিস্ট, জিহাদি বা বর্তমান তালেবান সরকার, কারও সাথেই কেন পাকিস্তানের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠেনি? এর মানে পাকিস্তানের আফগান নীতি গোড়াতেই ভুল ছিল।
সীমান্তে নিরাপত্তার ব্যর্থতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আফগানিস্তান থেকে একটি বেদানা বা তরমুজ পাকিস্তানে ঢুকতে পারে না, কিন্তু সন্ত্রাসীরা ঠিকই ঢুকে পড়ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, একেক সময় একেক জেনারেল এসে ভিন্ন ভিন্ন নীতি চাপিয়ে দেন। কেউ বলেন আলোচনা করতে হবে, আবার কেউ এসে বলেন যুদ্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রীয় নীতির এই অস্থিতিশীলতা বা “পলিসিহীনতা”ই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্রনীতির নৈতিক দিক নিয়েও মাওলানা ফজলুর রহমান সরকারের সমালোচনা করেন। গাজ্জায় ইসরাইলি বর্ববতার পেছনে আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদ থাকার পরও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তির জন্য নোবেল দেওয়ার কথা বলেছেন, একে তিনি “তোষামোদের চরম সীমা” এবং লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেন।
তিনি মুসলিম বিশ্বের শাসকদের সমালোচনা করে বলেন, যারা ফিলিস্তিনিদের হত্যাকারী (ইসরাইল ও আমেরিকা), তাদের তৈরি করা “পিস বোর্ড” বা শান্তির ফর্মুলার ওপর ভরসা করা বোকামি। তিনি নেতানিয়াহুর সাথে একই বৈঠকে বসা মুসলিম শাসকদের ধিক্কার জানান।
তিনি অর্থনীতির সাথে পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতাকে মিলিয়ে বলেন, যেখানে ভারত, চীন, ইরান এবং এমনকি আফগানিস্তানের অর্থনীতিও নিজেদের সামলে নিচ্ছে বা ভালো করছে, সেখানে এই অঞ্চলে একমাত্র পাকিস্তানই নিচের দিকে নামছে। এর দায় তিনি সরকারের ভুল পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার ওপর চাপান।











