জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের আফগান নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের প্রশ্ন করেন, জহির শাহের আমল থেকে শুরু করে আজকের ইমারাতে ইসলামিয়া পর্যন্ত কোনো আফগান সরকারই কেন পাকিস্তানের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে পারেনি। তিনি বলেন বিভিন্ন শাসনামলে আফগানিস্তানে সরকার বদলালেও পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের সংকট কাটেনি, যা পাকিস্তানের নীতিগত ব্যর্থতাই তুলে ধরে।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, “কমিউনিস্টরা এসেছে, মুজাহিদীনরা এসেছে, তালেবানরা এসেছে, যারা একসময় ‘প্রো- পাকিস্তানি’ বলে পরিচিত ছিল, তারাও এখন পাকিস্তানের সাথে নেই। এর মানে হলো, গত ৭৮ বছর ধরে পাকিস্তানের আফগান নীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।”
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুব কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্তে নিরাপত্তার ব্যর্থতা এবং দ্বিমুখী নীতির চিত্র তুলে ধরে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, “আফগানিস্তানের একটা ডালিম পাকিস্তানে ঢুকতে পারে না, একটা তরমুজ আসতে পারে না, একটা ফল আসতে পারে না; অথচ সন্ত্রাসীরা ঠিকই চলে আসছে।”
তিনি প্রশ্ন করেন, যদি সীমান্তে এত কড়াকড়ি থাকে যে সামান্য ফলমূল বা ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সন্ত্রাসীরা কীভাবে অবাধে প্রবেশ করছে। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীরা যদি এসেই থাকে, তবে তাদের আটকাও, তাদের মারো। তারা তো কোনো প্রতিবাদ করেনি।”
তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের কোনো সুনির্দিষ্ট জাতীয় আফগান নীতি নেই। একেক সময় একেকজন জেনারেল এসে নিজের মতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, “একজন জেনারেল এসে বলেন আলোচনা করব, আবার আরেকজন এসে বলেন যুদ্ধ করব।”
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নীতি এভাবে ব্যক্তির খেয়ালিপনার ওপর চলতে পারে না। এই অস্থিতিশীল সিদ্ধান্তের কারণেই সীমান্তে চার দশক ধরে রক্ত ঝরছে।
পাকিস্তানের অর্থনীতির করুণ দশা বোঝাতে গিয়ে তিনি আফগানিস্তানের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতি ভালো, চীনের অর্থনীতি ভালো, ইরানের অর্থনীতি ভালো, এমনকি “আফগানিস্তানের অর্থনীতিও আমাদের চেয়ে ভালো।”
যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের অর্থনীতিও যেখানে পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে, সেখানে পাকিস্তানের শাসকদের লজ্জিত হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ভুল আফগান নীতির কারণে অশান্তি এখন আর শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই। খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান ছাড়িয়ে এর প্রভাব এখন ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতেও এসে পড়েছে, যেখানে মসজিদের ভেতরেও মানুষ নিরাপদ নয়।











