মঙ্গলবার | ১৭ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

পশ্চিম তীরকে রাষ্ট্র মালিকানায় রূপান্তরের পদক্ষেপে সৌদি সহ ৭টি মুসলিম দেশের নিন্দা

দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরকে রাষ্ট্র মালিকানায় রূপান্তরের ইসরাইলী পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে সৌদি সহ ৭টি মুসলিম দেশ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম তীরকে রাষ্ট্র মালিকানায় রূপান্তরের ইসরাইলী পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে সৌদি সহ ৭টি মুসলিম দেশ।

দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনি, জনসংখ্যাগত এবং ঐতিহাসিক অবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সমস্ত একতরফা পদক্ষেপকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জমিগুলোকে তথাকথিত রাষ্ট্রীয় জমি হিসেবে মনোনীত করার জন্য জারি করা সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছেন, যা ১৯৬৭ এর পর অবৈধ রাষ্ট্রটি কর্তৃক এবারই প্রথম।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ জোর দিয়ে বলেন, এজাতীয় নীতিগুলো একটি বিপজ্জনক বৃদ্ধি গঠন করে, যা দখলকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের পাশাপাশি সমগ্র অঞ্চলে উত্তেজনা এবং অস্থিতিশীলতাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে।

এছাড়াও বলেন, এমন অবৈধ পদক্ষেপের অনুমোদন ভূখণ্ডটিতে অবৈধ বসতি স্থাপনের কার্যকলাপকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি জমি বাজেয়াপ্ত, অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক ইসরাইলী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উপর বেআইনি ইসরাইলী সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারকে ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে একটি গুরুতর বৃদ্ধি গঠন করবে।

অবৈধ রাষ্ট্রটির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, বিশেষত চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন এবং প্রাসঙ্গিক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনগুলোর লঙ্ঘনের প্রতিনিধিত্ব করে। তন্মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে রেজুলেশন- ২৩৩৪।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ জানান, শুধু তাই নয়, এমন সিদ্ধান্ত দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলী নীতি ও অনুশীলন থেকে উদ্ভূত আইনি পরিণতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের জারি করা পরামর্শমূলক মতামতেরও বিরোধিতা করে, যা আইনি, ঐতিহাসিক এবং জনসংখ্যাগত অবস্থা পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে পদক্ষেপের অবৈধতার উপর জোর দেয়। জোর দেয় অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারিত্বের অবসানের বাধ্যবাধকতা এবং বলপ্রয়োগ করে ভূখণ্ড অধিগ্রহণের নিষেধাজ্ঞায়।

এধরণের পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করেছে যে, তারা দখলকৃত জমির উপর নিয়ন্ত্রণ একীভূত করার জন্য পরিকল্পিত একটি নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা আরোপ করার চেষ্টা করছে, যার ফলে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ভেস্তে যাবে। স্বাধীন ও কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষুণ্ন ও বিপন্ন হবে।

সৌদি ও সেই ৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ নিজ নিজ সরকারের পক্ষ থেকে অঞ্চলে ন্যায্যতা এবং ব্যাপক শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর দায়িত্ব গ্রহণের আহবান জানান। আহবান জানান ইসরাইলের গুরুতর লঙ্ঘন বন্ধে ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার রক্ষা করার জন্য স্পষ্ট ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার।

তবে সর্বাগ্রে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, দখলদারিত্বের অবসান এবং ১৯৬৭ এর ৪জুনে নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী তাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে, যার রাজধানী ছিলো চিহ্নিত করা হয়েছিলো পূর্ব জেরুসালেম।

সৌদি আরবের পাশাপাশি যে ৭টি দেশ ইসরাইলের বিরুদ্ধে একযোগে নিন্দা জানিয়েছে সেগুলো হলো, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ