লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত ইরানি কূটনৈতিক মিশনে ইসরাইল কোনো ধরনের হামলা চালালে তার চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এ ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা ইসরাইলি দূতাবাসগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে ইরান।
বুধবার (৪ মার্চ) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকার্চি ইসরাইলি শাসনামলের সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষিতে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসরাইল বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে চলেছে এবং এর সমুচিত জবাব দেওয়ার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে ধৈর্য প্রদর্শন করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকা এবং ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী ব্যতীত বিশ্বের অন্য কোনো জাতির সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা বা বিরোধ নেই।’
বৈশ্বিক পর্যায়ে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রতি ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, ইরান অহেতুক কোনো সংঘাত চায় না, তবে নিজের সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক মর্যাদার ওপর আঘাত আসলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না।
ইসরাইলি হুমকির সরাসরি জবাবে জেনারেল শেকার্চি ঘোষণা করেন, লেবাননে ইরানি দূতাবাসে আক্রমণ মানেই হলো বিশ্বব্যাপী ইসরাইলি স্বার্থের ওপর হামলা চালানোর সবুজ সংকেত।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘যদি জায়নবাদী গোষ্ঠী এই ধরনের আগ্রাসন চালায়, তবে আমরা নিঃসন্দেহে এর পাল্টা জবাব দেব।’
ইরানের এই অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো ইসরাইলকে তার সীমানার মধ্যে রাখা এবং কূটনৈতিক স্থাপনার ওপর হামলা চালানোর মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখা।
শেকার্চি বলেন, ইরান তার প্রধান শত্রু ইসরাইল এবং তাদের প্রধান মিত্র আমেরিকাকে ‘হাঁটু গেড়ে বসাতে’ বদ্ধপরিকর।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ইরানি এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান তার লক্ষ্য অর্জনে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হবে না। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে ইসরাইলের এই বেপরোয়া আচরণের অবসান ঘটা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ইরান সর্বদা নিয়ম মেনে চলে কিন্তু পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে তারা চরম প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করবে না। এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে থাকা ইসরাইলি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি











