spot_img
spot_img

মোজতবা খামেনির হাতে ইরানের নেতৃত্ব : উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনার অবসান

আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে যে তীব্র জল্পনা চলছিল, শেষ পর্যন্ত তারই অবসান হলো। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা বা সুপ্রিম লিডার হিসেবে সামনে এসেছে মোজতবা খামেনির নাম। আল জাজিরা জানিয়েছে, উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় তার নামই চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠে এসেছে এবং পরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাকে আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

রবিবার (৮ মার্চ) আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের নীতি-নির্ধারণী ধর্মীয় পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস উত্তরসূরি প্রশ্নে সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-মেহদি মিরবাগেরির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, নতুন নেতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও প্রক্রিয়ার কিছু আনুষ্ঠানিক দিক তখনও বাকি ছিল।

পরে একই দিনে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণার বরাত দিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় সাঁইত্রিশ বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। আমেরিকা-ইসরাইল জোটের হামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তিনি নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশটির ক্ষমতার শীর্ষ পদে কে বসবেন, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়। আল জাজিরা আগেই লিখেছিল, সেই আলোচনায় মোজতবা খামেনি সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য নামগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছেন।

মোজতবা খামেনি আগে কোনো বড় প্রকাশ্য সরকারি পদে না থাকলেও ইরানের ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ বলয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হতো। বিশেষ করে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক ও রক্ষণশীল ধর্মীয় মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা ছিল।

এই নেতৃত্ব পরিবর্তন এমন এক সময় এলো, যখন ইরান আমেরিকা-ইসরাইল জোটের সঙ্গে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। ফলে মোজতবা খামেনির সামনে এখন শুধু ক্ষমতার ভার গ্রহণের প্রশ্ন নয়, বরং যুদ্ধাবস্থায় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণের বড় দায়িত্বও এসে পড়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা, এপি, রয়টার্স

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ