আফগানিস্তান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ও প্রত্যাবাসনবিষয়ক মন্ত্রী মাওলানা আবদুল কবির। তিনি বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে আফগান বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
মাওলানা আবদুল কবির বলেন, ইসলামি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ঐক্য জোরদার করা ইমারাতে ইসলামিয়ার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। তিনি আরও বলেন, বড় আঞ্চলিক প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ট্রানজিট করিডর সক্রিয় করা, প্রাকৃতিক সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, কৃষি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো গড়ে তোলা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সেতু হিসেবে কাজ করার সক্ষমতা আফগানিস্তানের রয়েছে। তার ভাষায়, দেশটির নীতি অর্থনৈতিক, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ। পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেই কাবুল আগ্রহী।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মাওলানা আবদুল কবির বলেন, এসব হামলা আন্তর্জাতিক ও ইসলামি নীতির লঙ্ঘন। তিনি বলেন, যুদ্ধ কারও স্বার্থ রক্ষা করে না। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের আলেম-উলামা ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান, বিদেশি শক্তির এজেন্ডার কারণে যেন দুই মুসলিম জাতির সম্পর্ক বলি না হয়।
মাওলানা আবদুল কবির আরও বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ সহজ করতে যেসব দেশ কাজ করেছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ কাবুল। তিনি বলেন, আলোচনার জন্য কাবুলের দরজা খোলা রয়েছে। তবে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে আফগানিস্তান পুরোপুরি প্রস্তুত, এবং আফগান বাহিনী জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। মাওলানা আবদুল কবির জানান, বর্তমানে আফগানিস্তান ইরান, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশ থেকে ফিরে আসা লাখো মানুষকে গ্রহণ করছে। তিনি পারস্য উপসাগরে সহিংসতার নিন্দা জানান এবং আমেরিকা ও ইসরাইলের ইরানের ওপর হামলারও নিন্দা করেন। একই সঙ্গে ইসলামি দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন এ ধরনের ঘটনার প্রতি উদাসীন না থাকে।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ










