spot_img

নখের কালি না শুকাতেই উন্নয়নের কথা বলে জুলাই সনদ ভুলিয়ে দিতে বসেছি: শফিকুল ইসলাম মাসুদ

সংসদীয় আসন-১১২, পটুয়াখালীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, ‘আমাদের চার বছরের সন্তানরাও জীবন দিয়েছে। বিগত ১৭ বছর উন্নয়নের কথা বলে আমাদের নির্বাচন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার বিগত দেড় বছর আমরা লক্ষ করলাম, নির্বাচন নির্বাচন বলে আমরা বিচার এবং সংস্কারটাই ভুলে গিয়েছিলাম। এখন আবার নখের কালি শুকাতে না শুকাতেই উন্নয়নের কথা বলে জুলাই সনদটাকেই ভুলিয়ে দিতে বসেছি।’

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর আনীত জনগুরুত্বপূর্ণ মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের শুরুতে আলোচনার অনুমতি দেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

হাসিনার ‘সংশোধনের’ প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাও সেদিন বলেছিলেন, ২৪ ঘণ্টা দরজা খোলা আছে, তোমরা সংশোধনের জন্য এসো। সেদিন ছাত্র-জনতা সংশোধন মেনে নেয়নি, তারা সংস্কারের কথা বলতে চেয়েছিল। আজকে আমরা সেই সংস্কারটা মাথায় নিতে পারছি না কেন?’

তিনি বলেন, বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে, পা হারিয়ে, চোখ হারিয়ে আমাদের সন্তানেরা জুলাইয়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল, ‘রাস্তা সংস্কারের কাজ নয়, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে’। আমরা সেই সংস্কারের কথাটা এখন মাথায় নিতে পারছি না। আমরা সংস্কারের পরিবর্তে এখন সংশোধনের দিকে যাচ্ছি। এই সংশোধনের জন্য আমাদের ছেলেরা, আমাদের তরুণ-যুবকরা, আমাদের জনতা জীবন দেয়নি। ভোটের পর নখের কালি শুকাতে না শুকাতেই উন্নয়নের কথা বলে আমরা জুলাই সনদটাকেই ভুলিয়ে দিতে বসেছি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সূত্র টেনে বলেন, ‘Necessity knows no law’ (প্রয়োজন কোনো আইন মানে না)। আমরা এই প্রয়োজনকে আজ সংবিধানের ধারায় আটকে ফেলেছি। আমরা লাইন, দাড়ি, কমা, সেমিকোলন খুঁজছি। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যে সংস্কার করার কথা ছিল, তা না করে আমরা খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ অন্যান্য কাজে গুরুত্ব দিলাম। অথচ যে সংস্কারের জন্য নির্বাচন করে আমরা এখানে কথা বলার সুযোগ পেলাম, তাতে নজর দিতে পারলাম না কেন?

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ