ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) রক্ষায় সেখানে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম মোতায়েন করেছিল ইসরাইল। এছাড়া এটি পরিচালনার জন্য দেশটিতে বেশ ক’জন সেনাও পাঠিয়েছিল তেল আবিব।
রোববার (২৬ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরাইল ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইসরাাইল ও আমেরিকার বাইরে অন্য কোনো দেশে আয়রন ডোম পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম।
আমেরিকা-ইসরাইল ও ইরান যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ক্রমাগত হামলা চালায় তেহরান। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান দেশটিতে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়েছে। এর ফলে এই যুদ্ধে ইসরাইলসহ এই অঞ্চলের অন্য সব দেশের তুলনায় আরব আমিরাতকেই সবচেয়ে বেশি হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে হয়েছে।
পুরো যুদ্ধজুড়ে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল ইরান। এরই অংশ হিসেবে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ছোড়া বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হলেও, বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির মুখে বাধ্য হয়েই মিত্রদের কাছে সহযোগিতা চায় আবুধাবি।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক্সিওস জানিয়েছে, আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের নির্দেশ দেন। বলা হচ্ছে, এই আয়রন ডোম ব্যবস্থাটি ইরানের ছোড়া ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল ও আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, দুই দেশ সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। এমনকি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য হুমকিস্বরূপ স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করতে যুদ্ধ চলাকালে দক্ষিণ ইরানে হামলাও চালিয়েছে ইসরাইলি বিমানবাহিনী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের কর্মকর্তারাই এখন বলছেন যে তাদের এই অংশীদারত্ব বর্তমানে নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইল যখন নিজে ব্যাপক হামলার মুখে ছিল, তখন দেশের বাইরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত খোদ ইসরাইলিদের মধ্যেই ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে।
এক্সিওস আরও জানিয়েছে, আরব আমিরাতের মাটিতে ইসরাইলি সেনার উপস্থিতি সে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য স্পর্শকাতর বিষয় হতে পারে। তবে প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক জ্যেষ্ঠ আমিরাতি কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধের সময় ইসরাইল যে সহায়তা করেছে, আরব আমিরাত তা কখনোই ভুলবে না।
এদিকে অন্য একজন আমিরাতি কর্মকর্তা যুদ্ধের সময় সহায়তার জন্য আমেরিকা, ফ্রান্স, ব্রিটেন, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ারও প্রশংসা করেছেন।
ইসরাইলের বহুল আলোচিত এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার তালিকায় শুধু আরব আমিরাত একাই ছিল না। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও বিভিন্ন সময়ে আয়রন ডোম প্রযুক্তি চেয়ে ইসরাইলের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে কিয়েভের সেই অনুরোধ বারবারই প্রত্যাখ্যান করেছে তেল আবিব।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল











