spot_img
spot_img

দেশে ধর্ষণ রোধে শরীয়াহ আইন বাস্তবায়নের দাবি বৈষম্যবিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলনের

দেশে গণহারে নারী-শিশু ধর্ষণ ও বলৎকার রোধে শরীয়াহ আইন যথাযথ বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলনের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) পল্টন আল বারাকাহ অডিটরিয়ামে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, সমাজ বর্তমানে এমন এক ভয়াবহ নৈতিক সংকট অতিক্রম করছে, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তাও আর নিশ্চিত নয়। পরিবারগুলো সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত, নারীরা সামাজিক অনিরাপত্তার মধ্যে জীবনযাপন করছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিকৃত যৌন সহিংসতার সংবাদ ক্রমাগত প্রকাশ পাচ্ছে। বহু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অবহেলা, ঘটনাকে গুরুত্বহীনভাবে দেখার প্রবণতা, অপরাধ গোপনের চেষ্টা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

বক্তারা বলেন, বিচারহীনতার দীর্ঘ সংস্কৃতি অপরাধীদের মধ্যে এক ধরনের দুঃসাহস সৃষ্টি করেছে। প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত ও কার্যকর শাস্তির অভাবের কারণ সহ নানাবিধ কারণে বহু অপরাধ ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে হত্যা, ধর্ষণ, বলাৎকারের মতো জঘন্য অপরাধ সমাজে পুনরাবৃত্ত বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। একটি রাষ্ট্র যখন নারী ও শিশুদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই ব্যর্থতা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে আসে।

বক্তারা আরও বলেন, হত্যা, ধর্ষণ ও বলাৎকার মানবিক মর্যাদা, পারিবারিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক ভারসাম্যের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এমন একটি বিচারব্যবস্থা প্রয়োজন, যা দ্রুত, কার্যকর এবং অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। বৈঠকে শরীয়াহ আইন যথাযথ বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের দাবি উত্থাপন করে বলা হয়, শরীয়াহভিত্তিক বিচারব্যবস্থা মানুষের জীবন, সম্মান ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে এবং যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও কঠোর প্রতিরোধমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে এবং এর দ্বারা সমাজের এমন নৃশংস ঘটনাগুলোর লাগাম টামতে বাধ্য করবে।

বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘটিত বলাৎকার ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলো একটি জাতির নৈতিক ও মানবিক বিকাশের কেন্দ্র হওয়ার কথা, সেখানে যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তবে তা জাতির ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। কোনো অপরাধকে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার অজুহাতে আড়াল করা কিংবা ভুক্তভোগীকে নীরব থাকতে বাধ্য করা সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না।

বৈঠক থেকে নারী-শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শরীয়াহ আইন যথাযথ বাস্তবায়নের বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

বৈষম্যবিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলন মনে করে, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার প্রশ্নে আর কোনো অবহেলা কিংবা আপসের অবকাশ নেই। ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও কার্যকর প্রতিরোধের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী কওমী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নোমান বিন নুরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা হোসাইন, সদস্য সচিব মাকছুদুর রহমান জুনায়েদ, মুখপাত্র ফারাবী আলামিন, সহ-মুখপাত্র হাফিজুল ইসলাম উসামা প্রমূখ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ