লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলা বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সেখানে একটি বহুতল আবাসিক ভবন লক্ষ্যবস্তু করার আগে ইসরাইলি বাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হামলার আশঙ্কায় গভীর রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ভবনটির চারপাশের অন্তত ৫০০ মিটার বা ১ হাজার ৬৪০ ফুট এলাকা অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ইসরাইলি বিমান হামলায় ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ধ্বংসপ্রাপ্ত মূল ভবনটির পাশাপাশি আশপাশের এলাকা এবং সংলগ্ন একাধিক সিটি ব্লকের বহু স্থাপনাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আতঙ্কিত বাসিন্দারা খোলা আকাশের নিচে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়।
এর আগে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর টায়ার শহরের বাইরে আশ্রয় নেওয়া বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছিলেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য প্রান্ত থেকে ঘরবাড়ি হারানো বিপুল সংখ্যক মানুষও টায়ার শহরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
কিন্তু নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা তাদের আবারও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
ইসরাইলের এই উপর্যুপরি হামলা কেবল নিরীহ মানুষের প্রাণহানি এবং তাদের বাস্তুচ্যুত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি লেবাননের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও মারাত্মক আঘাত হেনেছে।
চলমান এই যুদ্ধের ফলে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আবাসিক ভবন ও স্থানীয় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ লেবাননের একেকটি জনপদ ও পুরো সম্প্রদায়কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা।











