কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মাজারে সংস্কৃতির আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের কারবার চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুফতী আমির হামজা। এই প্রেক্ষাপটে মাজার এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর কাছে ব্যাখ্যা চান তিনি।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মুফতী আমির হামজা বলেন, লালন সাঁইয়ের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাজার এলাকায় ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই অনুষ্ঠানের আড়ালে এবং প্রশাসনের পাহারায় সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা চলে।
তিনি লালন মাজার এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে সরকারের সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।
মুফতী আমির হামজার প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শুধু লালন মাজারই নয়, সরকার পুরো দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাদক নির্মূলে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সমাজের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলে এবং সামগ্রিক উন্নতির মাধ্যমেই একটি সমাজকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদ অধিবেশনে বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিগত ১৮ বছর ছিল দেশের ইতিহাসে একটি অন্ধকার যুগ। ওই সময়ে মাদক দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
তিনি দাবি করেন, সেই সময়ে অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতা সরাসরি মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকার দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে সমাজকে একটি অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিয়েছিল।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার সেই অন্ধকার পরিস্থিতি কাটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে নিয়ে আসতে সরকার বদ্ধপরিকর।
তরুণ প্রজন্মকে অন্ধকার যুগ থেকে বের করে এনে একটি আলোকিত সমাজ উপহার দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।
লালন সাঁইয়ের মাজারকে ঘিরে এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে কীভাবে সাংস্কৃতিক পবিত্রতা বজায় রাখা যায় এবং মাদক নির্মূলে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো যায়, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সচেতন মহল।










