আফগানিস্তানের প্রতি আরও সমঝোতামূলক নীতি গ্রহণের জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান।
তিনি বলেন, সংঘাত নয়, বরং গঠনমূলক সম্পৃক্ততার ওপরই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করে। অঞ্চলে যুদ্ধ প্রতিরোধে আমরা যদি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা ও সমঝোতাকে সমর্থন করি, তাহলে আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা উচিত।
সোমবার (১৫ জুন) ইসলামাবাদের পার্লামেন্টে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, আঞ্চলিক বিভিন্ন বিরোধের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ যেসব কূটনৈতিক নীতি অনুসরণের কথা বলে, আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও একই নীতি গ্রহণ করা উচিত।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ঠেকানোর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানেরও পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার পথ অনুসরণ করা উচিত।
সামরিক পদক্ষেপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কৌশলের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা এবং ডুরান্ড লাইন অতিক্রম করে পরিচালিত অভিযান পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা কমাতে পেরেছে?
তিনি নীতিনির্ধারকদের বিদ্যমান কৌশল পুনর্মূল্যায়ন এবং আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, একটি স্থিতিশীল আফগানিস্তান শুধু আফগানদের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং পাকিস্তানের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্যও এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সীমান্তের ওপারে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে তার প্রভাব পুরো অঞ্চলের ওপর পড়বে।
পাক জমিয়ত সভাপতি সংকটপূর্ণ বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানের প্রতি আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক সমর্থনের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে ১৯৬৫ সালে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধের সময় আফগানিস্তানের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক দিক থেকে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আফগানিস্তানের সঙ্গে শক্তিশালী সহযোগিতা এসব চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: আরিয়ানা নিউজ











