ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশটি এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
আফগানিস্তানে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আহ্বানের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মুজাহিদ বলেন, কয়েক দশকের যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা থেকে আফগান জনগণ বেরিয়ে এসেছে। দেশের নিরাপত্তা বাহিনী শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় সক্ষম।
তিনি বলেন, “আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। জনগণ যুদ্ধ, দুর্দশা, বিরোধ ও সংঘাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমাদের এমন শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে, যারা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম। এখন অগ্রাধিকার হলো, আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে নিজের পায়ে দাঁড় করানো এবং উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন নিশ্চিত করা।”
আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পরিবর্তে দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান মুজাহিদ।
আফগান মুখপাত্র বলেন, “আমরা চাই, অন্যান্য দেশ আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে দেশটির সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক ও সামগ্রিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা করুক এবং তা আরও শক্তিশালী করুক।”
জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আফগানিস্তানে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর আবারও গুরুত্বারোপ করার পর মুজাহিদ এসব মন্তব্য করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তি দিয়েছে, এ ধরনের একটি কাঠামো আফগানিস্তানে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন আফগানিস্তানের সর্বত্র বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।
ইমারাতে ইসলামিয়া বরাবরই বলে আসছে, অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের বিষয়টি আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে বিদেশিদের মন্তব্যকে তারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
২০২১ সালের আগস্টে ইমারাতে ইসলামিয়া পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততায় রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির বিতর্কটি অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
সূত্র: আরিয়ানা নিউজ











