দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।
শনিবার (২০ জুন) দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল১২ এ তথ্য জানিয়েছে।
আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইসরাইলের নেতারা। তবে লেবাননে অধিকৃত এলাকাগুলোতে সেনারা তাদের বর্তমান অবস্থান বজায় রাখবে।
এদিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘রাজনৈতিক মহলের নির্দেশনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইসরাইল রাষ্ট্র ও সৈন্যদের জন্য যেকোনো হুমকি দূর করতে পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
লেবাননে নতুন করে ইসরাইলি হামলার জেরে ইরানের সামরিক বাহিনী বিশ্বের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরাইরের পক্ষ থেকে হামলা বন্ধের এই বার্তা এলো।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধের অবসানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ থাকলেও সেখানে ইসরাইলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর প্রতিবাদে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে গতকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানি প্রতিনিধি দল। ফলে শেষ মুহূর্তে বৈঠকটি বাতিল করা হয়েছে এবং আলোচনার সময়সূচী নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
পরবর্তীতে গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরাইল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
এদিন স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকরও হয়। তবে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে কয়েক ঘণ্টা পরই ফের হামলা শুরু করে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা- ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সত্ত্বেও শনিবার ভোর থেকে দেশজুড়ে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিত মানুষ।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তথ্য মতে, গত ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ৫৭ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দা।
সূত্র: আলজাজিরা











