বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির সামনে মাথা নত করলে তাদের ছেড়ে কথা বলা হবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত প্রস্তুত রয়েছে।
যুবসমাজসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণকে দেশের মর্যাদা রক্ষায় আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্তে আজ নানা ধরনের উসকানি দেওয়া হচ্ছে। পুশইনের নামে একটি প্রতিবেশী দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি যখন শক্ত হয়ে দাঁড়ায়, তখন দেশের জনগণ তাদের ডান হাত ও শক্তিতে পরিণত হয়। এই ডান হাত হলো দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত।
প্রতিবেশী দেশের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম ও শান্তি হারাম হোক। একইভাবে কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে কালো হাত বাড়াবে, সেটাও আমরা বরদাশত করব না। কেউ কালো হাত বাড়ালে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।’
যুবসমাজের উদ্দেশে জামায়াতের আমীর বলেন, আগামী দিনের সম্ভাব্য বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। কোনো গোষ্ঠী বা পরিবারের আত্মসম্মান রক্ষা কিংবা স্বার্থসিদ্ধির জন্যও নয়।
তিনি বলেন, ‘এই বিপ্লব হবে কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত না করে পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি ও সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য।’
এ সময় সুস্থ, দুর্নীতিমুক্ত, চক্রান্তমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে যুবকদের পাশাপাশি প্রবীণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়, আধিপত্যবাদ, চাটুকার, দুর্নীতিবাজ ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বয়সের ব্যবধান ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তারা বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন না করা, হত্যার রাজনীতি বন্ধ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু প্রতিটি প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা ও পঙ্গু করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছিল আয়নাঘর। ব্যাংক, বিমা ও শেয়ারবাজার লুণ্ঠন করে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য স্মরণ করিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা একসময় দম্ভ করে বলতেন, ‘হাসিনা পালায় না’, তীব্র জনস্রোতের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই হাসিনাকেই অপমানজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুপুরের ভাত খাওয়ার রিজিকটুকুও আল্লাহ তার জন্য রাখেননি। গত ১৫ বছর যাদের সেবাদাসী হিসেবে কাজ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাদের কোলেই গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।’
ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ফয়সালা সংসদে না হলে পল্টন, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়ার মাঠ থেকে গণজাগরণ সৃষ্টি হবে। আর সেই জাগ্রত জনমতই সরকারে পরিণত হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ ও মাওলানা মামুনুল হক।
সমাবেশে সম্মানিত অতিথি ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।











