ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, আলোচনার সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেওয়ার পর তিনি সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান।
সোমবার (২২ জুন) ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
রবিবার অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা নিয়ে গালিবাফ বলেন, আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি সংলাপের বিরোধিতার অবস্থান বজায় রেখেই ইরান আলোচনায় অংশ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমাদের কিছু নীতি আছে। এখন পর্যন্ত আমরা কখনোই আমেরিকানদের সঙ্গে একই সংলাপের অংশ হতে চাইনি।”
গালিবাফের মতে, মধ্যস্থতাকারীরা জোর দিয়ে বলেছিলেন, এই বৈঠক আলোচনার সূচনা। তবে ইরানি পক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, তারা কেবল আলোচনায় অংশ নেবে, আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি সংলাপে নয়।
তিনি বলেন, “আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে আমি জানতে পারি, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট, আলোচক দল এবং আমাদের ভূখণ্ডে হামলা নিয়ে হুমকি দিয়েছেন।”
গালিবাফ বলেন, এ বিষয়টি তিনি আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সামনে তুলে ধরেন। তার বক্তব্য ছিল, ট্রাম্পের মন্তব্য দুই পক্ষের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, “আমি ভ্যান্সকে বলেছি, আমরা এখানে আলোচনায় আছি এবং স্বাক্ষরিত সমঝোতার প্রথম ধারায় হুমকি ও শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আপনার প্রেসিডেন্ট আজ হুমকি দিয়েছেন। আপনাদের জানা উচিত, আমরা কখনোই হুমকি বা শক্তির মুখে আলোচনা করি না।”
গালিবাফ জানান, এরপর ইরানি প্রতিনিধি দল বৈঠক শেষ করে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।
তিনি বলেন, “আমরা আলোচনা শেষ করেছি, বৈঠক ছেড়ে চলে গেছি এবং আর ফিরে যাইনি।”
গালিবাফের মতে, পরে আমেরিকান পক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আরেকটি বৈঠক করতে চেয়েছিল। তবে তেহরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
তিনি বলেন, “আমেরিকান পক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আরেকটি বৈঠক আয়োজনের জন্য জোর দিয়েছিল। আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি।”
গালিবাফ আরও বলেন, পরে কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি বলেন, “কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের কাছে আসেন। আমরা তাদের বলেছি, আমরা আপনাদের সঙ্গে কথা বলব, কিন্তু আমেরিকান পক্ষের সঙ্গে কথা বলব না।”
গালিবাফ জানান, আলোচনা প্রায় ৮০ মিনিট ধরে চলে। পরে পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে তা শেষ হয়।
এর আগে রবিবার ট্রাম্প ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন “লেবাননে তাদের উচ্চ বেতনভোগী প্রক্সিদের অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি বন্ধ করে।” অন্যথায় আমেরিকা তেহরানের ওপর “আবার খুব কঠোর আঘাত” হানবে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “যদি তারা তা না করে, তাহলে আমরা ইরানকে আবার খুব কঠোরভাবে আঘাত করব, ঠিক যেমনটি গত সপ্তাহে করেছি, শুধু আরও কঠোরভাবে।”
ফক্স নিউজের মতে, ট্রাম্প রাতে ইরানিদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সেখানে তিনি সতর্ক করে বলেন, তারা যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে “তোমাদের কোনো দেশ থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “তোমরা তোমাদের ফ*** দেশেও ফিরে যেতে পারবে না।”
ট্রাম্প বলেন, “প্রয়োজনে আমরা প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারি।”
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যিনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার ইরান বজায় রাখার কথা বলেছেন, “তার মুখ সামলে কথা বলা উচিত।”
ট্রাম্প বলেন, “তার ঠিক হয়ে যাওয়া উচিত, নাহলে আমরা দেশের বাকি অংশও দখল করে নেব।”
ইরান ও আমেরিকা ১৪ জুন ঘোষণা করে, তারা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ শেষ করা এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিরোধগুলোর সমাধান করা।
ইসলামাবাদ সমঝোতা নামে পরিচিত এই সমঝোতা স্মারক ১৮ জুন কার্যকর হয়। এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিতে যুদ্ধ শেষ করা সম্পর্কিত কয়েকটি বিধান রয়েছে। এর মধ্যে লেবানন ইস্যু, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর আরোপিত আমেরিকার নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র: আনাদোলু











