spot_img
spot_img

শর্তহীনভাবে ইসরাইলকে লেবানন ছাড়তে হবে: হিজবুল্লাহ

ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অধৈ রাষ্ট্র ইসরাইলকে অবশ্যই শর্তহীনভাবে লেবানন ত্যাগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম।

তিনি বলেন, ইসরাইল কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে লেবাননে অবস্থান করছে না। বরং তারা লেবাননকে গ্রাস করতে এবং দেশটি দখল করতে চায় বলেই সেখানে ঢুকেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এই দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংযম প্রদর্শন কোনো দুর্বলতা ছিল না, বরং এটি ছিল ধৈর্যের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।’

দীর্ঘ সহনশীলতাই বিজয়ের একমাত্র পথ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যই ভবিষ্যৎ গঠন করে, সমীকরণ ওলটপালট করে দেয় এবং অত্যাচারীর নিপীড়নকে ভেঙে চূর্ণ করে।’

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, লিটানি নদীর উত্তর অঞ্চলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ বা অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইসরাইলের পূর্ণাঙ্গ এবং শর্তহীন প্রত্যাহারের পর অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরে আলোচনা করা হবে।

তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের এই আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা। তবে তারা এই আগ্রাসন সফলভাবে রুখে দিয়েছেন।

নাঈম কাসেম উল্লেখ করেন, ইসরাইলি দখলের ফলেই এই প্রতিরোধ বা রেজিস্ট্যান্সের জন্ম হয়েছে।

তিনি জানান, তাদের যোদ্ধারা বর্তমানে আলী তাহের পাহাড়ে অবস্থান করছেন

হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম লেবানন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শত্রুর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সাথে তিনি বাইরের শক্তির খবরদারি এবং আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ অনুযায়ী নির্দেশ বাস্তবায়ন বন্ধ করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, লেবাননের কর্তৃপক্ষ দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর সাথে শত্রুতা বা বৈরিতা করার ঝুঁকি নিতে পারে না।

তিনি দাবি করেন, তারা ইসরাইলি-আমেরিকান পরিকল্পনা বা প্রজেক্ট নসাৎ করে দিয়েছেন এবং এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছেন।

নাঈম কাসেম আরো উল্লেখ করেন, লেবানন সরকার যদি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে এগিয়ে যায়, তবে এই প্রতিরোধ যোদ্ধা বা হিজবুল্লাহ সরকারের পাশে থাকবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ নিয়ে মন্তব্য করেছেন কাসেম। তিনি এই সমঝোতায় পৌঁছানোকে আমেরিকা ও ইসরাইলের পরাজয়ের একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বলে অভিহিত করেছেন।

নাঈম কাসেম বলেন, ইরান নিজের অবস্থানে দৃঢ় ও অবিচল থাকতে পেরেছে। এর ফলেই দেশটি এই সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা মূলত আমেরিকা এবং ইসরাইলের পরাজয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ করে।

সূত্র: আল-জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ