দখলকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে টানা পঞ্চম দিনের মতো আজান নিষিদ্ধ করেছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি বাহিনী। একই সঙ্গে ইসরাইলি সেনাবাহিনী মসজিদটির পরিচালক শায়খ মুতাজ আবু স্নেইনেহ এবং খাদেমদের প্রধান হাম্মাম আবু মুরখিয়াকেও ১২ দিনের জন্য মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) একটি ফিলিস্তিনি সূত্রে বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
ফিলিস্তিনি সূত্রটি বলেছে, “নামাজ হচ্ছে, কিন্তু আজান নেই।”
সূত্রটি জানায়, যেখান থেকে আজান প্রচার করা হয়, সেই কক্ষটি মসজিদের এমন অংশে অবস্থিত, যা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজান দেওয়ার দায়িত্বে থাকা মুয়াজ্জিনকে ওই কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে সেনারা।
১৯৯৪ সালে এক আমেরিকান-ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ করে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ওপর গুলি চালায়। এতে ২৯ জন নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের পর ইসরাইল মসজিদটি ভাগ করে দেয়। এর প্রায় ৬০ শতাংশ ইহুদি উপাসকদের জন্য এবং বাকি অংশ মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
এরপর থেকে ফিলিস্তিনিরা বলে আসছেন, ইসরাইল ধীরে ধীরে এই পবিত্র স্থানের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। মুসলমান ও ইহুদি উভয়ের কাছেই এটি হযরত ইবরাহিম আ.-এর সমাধিস্থল হিসেবে শ্রদ্ধেয়। ইসলাম, ইহুদি ধর্ম ও খ্রিস্টধর্ম, তিন ধর্মেই তিনি সম্মানিত পিতৃপুরুষ হিসেবে পরিচিত।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এই স্থানে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি কমানো এবং ইহুদি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজ্জায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এসব পদক্ষেপ আরও তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুসল্লিদের প্রবেশাধিকারে কঠোর বিধিনিষেধ, ইমাম ও মসজিদ কর্মীদের বহিষ্কার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ধীরে ধীরে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নেওয়া।
ইব্রাহিমি মসজিদ দখলকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেবরনে অবস্থিত। ১৯৬৭ সাল থেকে এলাকাটি ইসরাইলের দখলে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এই দখলদারিত্ব অবৈধ বলে বিবেচিত।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই











