দীর্ঘ ১১২ বছর পর তুরস্কের গুমুশহানে প্রদেশের ঐতিহাসিক ‘কুচুক মসজিদ’-এ আবারও ধ্বনিত হলো আজানের সুর। দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর, সম্প্রতি জুমার নামাজের মাধ্যমে মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
তুরস্কের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এই মসজিদটি সেলজুক আমলের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। ইতিহাসবিদদের মতে, মসজিদটির বয়স প্রায় এক হাজার বছর। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নানা প্রতিকূলতায় মসজিদটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ২০০৫ সালে তুরস্কের ‘ফাউন্ডেশন জেনারেল ডিরেক্টরেট’ এর সংস্কার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ ২০ বছরের সূক্ষ্ম ও নিপুণ পুনর্নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৫ সালে মসজিদটি তার পুরনো জৌলুস ফিরে পায়। সংস্কারের ক্ষেত্রে মসজিদটির মূল নকশা এবং প্রাচীন নির্মাণশৈলী অক্ষুণ্ণ রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী জুমার নামাজে ইমামতি করেন স্থানীয় মুফতি খায়রি আরনায়। প্রথম জামাতে শত শত স্থানীয় মুসল্লি অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মুফতি খায়রি আরনায় বলেন, “১১২ বছর পর এই পবিত্র স্থানে আবারও ইবাদত শুরু হওয়া স্থানীয় জনগণের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। এই মসজিদটি কেবল আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, বরং এটি এলাকাবাসীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য আরও দৃঢ় করবে বলে আমরা আশা করি।”
সেলজুক আমলের এই মসজিদটি এখন থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য খোলা থাকবে, যা ওই অঞ্চলের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকেও সমৃদ্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










