ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এই দৃশ্য দেখা যায়।
এতে দেখা যায়, ইরানের পবিত্র শহর কোমের একটি সড়কে বড় একটি বাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বাকেটটিতে ছোট ছোট প্যাকেটে বেশ কিছু খাবার ছিল, যেটি জানাজায় অংশগ্রহণকারী নারী, পুরুষ ও শিশুদের মাঝে নিজ হাতে বিতরণ করছিলেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ তাকে ঘিরে ধরে খাবার গ্রহণ করেন, তবে প্যাকেটে কী ধরনের খাবার ছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খাবার বিতরণ ছাড়াও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বেশ কিছু প্রশংসামূলক কার্যক্রম স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে। সেখানকার কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে ছবি তোলা, যুদ্ধাহত যোদ্ধার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আলী লারিজানী সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন কতে দেখা যায় এনসিপির এই নেতা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক স্ট্যাটাসে জানান, ইরানের কোমে যুদ্ধাহত এক যোদ্ধার সঙ্গে সাক্ষাৎ দীর্ঘক্ষণ কথা হলো। দেশ রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন বা গুরুতর ক্ষত নিয়ে ফিরে এসেছেন, ইরান তাদের যেভাবে সম্মান, মর্যাদা ও ভালোবাসায় আগলে রাখে, তা সত্যিই আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।
‘মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং চব্বিশের শহীদ ও আহতদের যদি আমরা যথাযথ মর্যাদা, সম্মান ও জাতীয় চেতনার জায়গা থেকে জাতির সামনে তুলে ধরতে পারি, তাহলে নতুন প্রজন্ম আরও বেশি দেশপ্রেমে জাগ্রত হবে এবং দেশের জন্য দায়িত্ব নিতে অনুপ্রাণিত হবে’।
আরেক স্ট্যাটাসে নাসীরুদ্দীন বলেন, ইরান বেঁচে আছে, আমাদেরকে অবশ্যই জেগে উঠতে হবে।
জানা যায়, খামেনির মরদেহ আজ পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাস্তায় নেমেছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। আজ কোমে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আগামীকাল মরদেহ ইরাকের নজফে ইমাম আলী (আ.)-এর মাজার এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন (রা.) ও হযরত আব্বাসের মাজারে নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে, গত ৩ জুলাই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে পৌঁছান তিনি।










