spot_img

ভারতের স্বাধীনতায় মুসলমানদের অবদান ভুলে গেলে চলবে না: আরশাদ মাদানী

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আলেম ও মুসলমানদের অবদান ভুলে গেলে চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সম্মিলিত আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সব সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি মুসলমান ও ইসলামী আলেমরাও এ সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ভারতের স্বাধীনতায় কোনো সম্প্রদায়ের ভূমিকাই উপেক্ষা করা উচিত নয়।

শনিবার (১৮ জুলাই) লক্ষ্ণৌর অটল বিহারী বাজপেয়ী সায়েন্টিফিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্য সম্মেলন’-এ তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতে ক্রমবর্ধমান সামাজিক মেরুকরণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানিয়ে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, ঘৃণা ও ধর্মীয় বিভাজনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাজনীতি দেশের স্বার্থ রক্ষা করে না।

তিনি বলেন, ভারতের প্রকৃত শক্তি শান্তি, পারস্পরিক সম্মান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে নিহিত।

বিভিন্ন ধর্মের অন্তর্নিহিত ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, উপাসনার পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সব ধর্মই শেষ পর্যন্ত এক সর্বোচ্চ সত্তার প্রতি বিশ্বাসের কথা বলে।

তিনি হিন্দু ধর্মীয় মন্ত্র ‘ওম নমঃ শিবায়’ এবং মুসলমানদের স্লোগান ‘আল্লাহু আকবার’ এর মধ্যে সাদৃশ্য তুলে ধরেন। তার মতে, উভয় উচ্চারণই পরম সত্তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে।

বক্তব্যে রামপুরের মুহাম্মাদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলার প্রস্তাবের সমালোচনা করে মাওলানা আরশাদ মাদানী বলেন, কোনো আইনি বা প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘন হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী তার সুরাহা করতে হবে। তবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা অন্যায় হবে। এতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেকোনো পদক্ষেপ কঠোরভাবে আইনের শাসন মেনেই নিতে হবে।

তিনি বিভিন্ন বিরোধ সাংবিধানিক ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বিভাজনের রাজনীতিকে সামাজিক আস্থা ও জাতীয় ঐক্যের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঘৃণা প্রত্যাখ্যান এবং সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার ওপরই ভারতের অগ্রগতি নির্ভর করছে।

‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি আরও বিস্তৃত পরামর্শ ও আলোচনার পক্ষে মত দেন। জ্ঞানবাপী মসজিদ ইস্যুর স্থায়ী সমাধানে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে ন্যায়বিচার, আন্তধর্মীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সূত্র: মুসলিম মিরর

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ