spot_img

ইসরাইলি হামলা-দখলদারিত্ব অবসানের উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তুরস্ক: এরদোগান

ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের হামলা ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো তুরস্ক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

তিনি বলেন, “এসব প্রচেষ্টায় তুরস্ক কীভাবে অবদান রাখতে পারে, তা আমরা মূল্যায়ন করেছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেছি।”

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তুরস্কে সফররত লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, লেবানন ও সিরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংলাপ উভয় দেশের জন্য উপকারী হবে। কঠিন অতীতের মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশ দুটির সম্পর্ক শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে আমরা প্রস্তুত।”

তিনি বলেন, লেবানন থেকে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী প্রত্যাহারের পর দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া সব উদ্যোগে তুরস্ক সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চায়।

আউনকে একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ সামরিক নেতা উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, চলতি বছরের শুরুতে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া লেবাননের নিরাপত্তা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আউনের সাফল্য কামনা করেন তিনি।

চলতি মাসের শুরুতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের ইস্তাম্বুল সফরের কথা স্মরণ করে এরদোগান বলেন, আউনের সঙ্গে আজকের বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, “বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরাইলি দখলদারিত্বের প্রেক্ষাপটে।”

তিনি বলেন, “আমাদের বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম লেবাননের সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি আমরা আমাদের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রেখেছি।”

এরদোগান বলেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘাতের যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পরিণতি লেবানন দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শুরু থেকেই তুরস্ক যে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সহযোগিতার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছে, তা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে লেবানন থাকবে।

বুধবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ বাহিনীর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সম্ভাব্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ইউরোপীয়, তুর্কি, ন্যাটো-সমর্থিত, আরব ও ইসলামি অংশগ্রহণ রয়েছে।

তিনি বলেন, লেবাননের অগ্রাধিকার হলো ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি হওয়া ঠেকানো। একই সঙ্গে নতুন যেকোনো বাহিনী যেন লেবাননের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে, স্থিতিশীলতা রক্ষা করে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানায়, তা নিশ্চিত করা।

তুরস্ক এর আগে বর্তমান জাতিসংঘ বাহিনী ইউনিফিলের নৌ শাখায় অবদান রেখেছে।

এরদোগান বলেন, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। এ সময় ২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং ১০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি আবারও লেবাননের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, “প্রথম দিন থেকেই হামলাগুলোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো প্রতিক্রিয়া জানানো দেশগুলোর মধ্যে তুরস্ক রয়েছে।”

এরদোগান বলেন, “লেবাননের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে আমরা সহায়তা অব্যাহত রাখব। একই সঙ্গে মানবিক ও কারিগরি সহায়তাও চালিয়ে যাব।”

তিনি আরও বলেন, ইসরাইলি হামলা শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননের পুনর্গঠনে সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দিতে তুরস্ক প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ