বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে এখানে সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ বা একিউআইএস বলে দাবি করেছে জাতিসংঘ। তবে বাংলাদেশে ইতোমধ্যে সংগঠনটির কোনো সেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়নি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের ৩৮তম প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। গত সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত S/2026/651 নম্বরের প্রতিবেদনটি তৈরির সময় চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। মনিটরিং টিমের সদস্যদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়।
প্রতিবেদনের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অংশের ১০১ নম্বর অনুচ্ছেদে একিউআইএসের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে জাতিসংঘ দাবি করেছে, একিউআইএস একটি খণ্ডিত গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সংগঠনে রূপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে এবং বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট, বিচ্ছিন্ন ও বিকেন্দ্রীভূত সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
একই অনুচ্ছেদে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের দিল্লির লাল কেল্লায় সংঘটিত হামলাকে একিউআইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ দাবি করেছে, বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে এখানে সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে সংগঠনটি এবং এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে বাংলাদেশকে কীভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, কোথায় সম্ভাব্য সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে কিংবা কারা এর সঙ্গে যুক্ত, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। সম্ভাব্য সেলের সংখ্যা, সদস্যসংখ্যা, অর্থায়নের উৎস কিংবা বাংলাদেশে হামলার কোনো পরিকল্পনার কথাও ওই অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
পুরো ৩০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এটিই একমাত্র সরাসরি উল্লেখ। ফলে জাতিসংঘ বাংলাদেশে ইতোমধ্যে আল-কায়েদার সেল রয়েছে বলে দাবি করেনি। তাদের প্রতিবেদনে কেবল একিউআইএস বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে এখানে সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
একিউআইএসের আঞ্চলিক তৎপরতার বিষয়ে পরবর্তী অনুচ্ছেদে জাতিসংঘ দাবি করেছে, সংগঠনটি ‘ইত্তিহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ বা আইএমপির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রতিবেদনে গত ৯ মে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার বান্নুতে একটি নিরাপত্তা চৌকির কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি বিস্ফোরণে ২১ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই এলাকায় ২২ ফেব্রুয়ারি একটি সামরিক বহরে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি দিয়ে হামলায় আরও দুজন নিহত হন বলেও দাবি করা হয়।
একই সঙ্গে একিউআইএসের নেতৃত্ব কাবুলে অবস্থান করছে এবং তাদের তাজকিরা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে জাতিসংঘের মনিটরিং টিম। এর ভিত্তিতে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান ও একিউআইএসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে জাতিসংঘ দাবি করেছে, সামগ্রিকভাবে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হুমকির মাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দক্ষিণ এশিয়া ও সাহেল অঞ্চলে তা বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, টিটিপি, আইএসআইএল-কে এবং আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে একাধিক দাবি ও মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র : জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ










