spot_img

সংস্কার নেই, গ্যাস-বিদ্যুৎও নেই, পেটে ভাতও নেই: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, নির্বাচন হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে এবং ক্ষমতায় এলে মানুষের পেটে ভাত থাকবে—এমন কথা দীর্ঘ দেড় বছর ধরে শুনতে হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পাঁচ-ছয় মাস পার হতে চললেও এখন সংস্কার তো নেই-ই, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পেটে ভাতও নেই।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা সুবিধা আর পেটে ভাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। মাশাল্লাহ, তারা যে পেটে ভাতের কথা বলতো, আলহামদুলিল্লাহ তারা আসার পর এখন কোনো কিছুই আর জনগণের কাছে সহজলভ্য নেই।”

চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমরা আজকে এই প্রোগ্রামে আসার আগে একটি নিউজ দেখছিলাম। আমরা তো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু করে চাঁদাবাজির বিভিন্ন অভিনব কৌশল ও উপায়ের কথা শুনছি, নিউজে দেখছি। আজকে একটা নিউজে দেখছিলাম, আপনারাও দেখেছেন, সম্ভবত যেকোনো একটি গ্রামে জমিতে গরু-মহিষ চরাতে গেলেও ছাত্রদলকে চাঁদা দিতে হয়।”

তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তিনি সম্ভবত রাষ্ট্রপতি হবেন, নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, তারা ক্ষমতায় এলে বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। তাদের কথা দেখেছেন? বছরের ছয় মাসও হয় নাই, কিন্তু ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির অলরেডি চাঁদাবাজির মাধ্যমে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়ে গেছে।”

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে না। বিএনপি আগের ব্যবস্থার মধ্যেই আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করছে। এখানে একটা আইওয়াশ হচ্ছে। সবার সামনে নির্বাচন হবে, ভোট হবে, কিন্তু সরকারি দলের ২১৩ জন সংসদ সদস্য দলের নির্ধারিত প্রার্থীর বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সংসদ সদস্য পদ থাকবে না।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা শুনছি, প্রায় ছয় মাস হয়ে গেল। এখনো আমরা কোনো তারিখ পাই নাই। কিন্তু আমরা শুনছি, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে।”

তিনি বলেন, “জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পর এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হলে আমরা একটা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ আশা করতে পারতাম।”

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আপনারা ইতোমধ্যে জানেন, বিএনপি সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা পরিষদগুলোর প্রায় সবগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।”

বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, “বিএনপি গত ১৭ বছর সংস্কারের কথা বলে রাজনীতি করে আসছে, গণতন্ত্রের কথা বলে রাজনীতি করে আসছে। অথচ দেখেন, তাদের প্রশাসকরা সরকারি টাকায়, সিটি করপোরেশনের টাকায় একপাশে সিটি করপোরেশনের লোগো, আরেক পাশে বিএনপির দলীয় লোগো এবং তারপর তার বড় ছবি দিয়ে সারা ঢাকায় পোস্টারিং করে ছড়িয়ে ফেলেছে। এখানেও আশপাশের পোস্টার খুঁজলে পাওয়া যাবে। সরকারি টাকায়, সিটি করপোরেশনের তহবিলের টাকায় নিজের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো—এ কেমন গণতন্ত্র?”

তিনি বলেন, “আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে দাবি জানিয়েছি, যাদেরকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। যদি তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তবে এই নির্বাচনটি আবারও একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েই থাকবে।”

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, “আমরা বর্ডারের ওপার থেকে শুনি শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসতে চান। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা নানা জায়গায় সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, তারা বাংলাদেশে আসতে চান। এই বিষয়টিকে কেউ বিনোদন হিসেবে দেখছে না। আমরাও চাই আপনারা আসুন।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তার সঠিক বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি, ইনশাআল্লাহ।”

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ