spot_img

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি বড় জাতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলাম।

রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধীন সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু একটি মানবিক সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি একই সঙ্গে মানব নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি।

তিনি বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে গ্রহণ করা এই দায় গত নয় বছরে বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই বড় বোঝায় পরিণত হয়েছে।

এ কে এম শামছুল ইসলাম কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৩৩টি ক্যাম্পে অবস্থানরত প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, এসব ক্যাম্পে ছয় থেকে ১১টি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। ইয়াবাসহ মাদক পাচার অব্যাহত আছে এবং ২০১৭ সাল থেকে দুই হাজারের বেশি মামলা দায়ের হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি সংগঠনটির মনোভাব মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চেয়েও কঠোর।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৮ সালে এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে রোহিঙ্গা আগমনের সংকট নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়ে সমাধান করা হয়েছিল। এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, ধৈর্য ও কৌশলগত দৃঢ়তার সঙ্গে পরিচালিত কূটনীতি ফল বয়ে আনতে পারে।

এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অগ্রসর হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মানবিক দায়বদ্ধতা, জাতীয় স্বার্থ এবং নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করছে সরকার।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ